রাজধানীর আদাবরে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন বাদশা হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম—শোয়েব, আরমান ও নয়ন। তারাও স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের পর নবোদয় বাজার এলাকায় কয়েকজন কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ-উল্লাস করছিল। এ সময় হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিরব নামে এক যুবককে মারধর করেন।
স্থানীয়রা জানান, পরদিন মঙ্গলবার একই ঘটনার জেরে ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন নবোদয় বাজারে গিয়ে নিরবকে আবার মারধর করেন এবং তাঁকে তুলে নিয়ে যান। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত বুধবার রাতে নবোদয় বাজারে হাবিবুর রহমানের কার্যালয়ে এ নিয়ে সালিস বসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সালিস শেষে সাদ্দাম ও তার লোকজন নিরব এবং তার বড় ভাই রিপনের ওপর হামলার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার মধ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
এতে ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন বাদশাসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বাদশার অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, হাবিবুর রহমান স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে রিপন ও নিরব নবোদয় ইউনিট বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মিরাজের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।








