বলিউডে ক্রিকেটভিত্তিক সিনেমা নতুন নয়। তবে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টারদের একজন লালা অমরনাথকে নিয়ে বড়পর্দায় গল্প বলার পরিকল্পনা বহুদিনের। অবশেষে সেই গল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন আমির খান। কিন্তু অনেকেরই অজানা, আমিরের ‘লালকারা’র বহু আগে এ প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল শাহরুখ খান ও নির্মাতা রাজকুমার হিরানির।

সম্প্রতি জানা গেছে, ‘সিতারে জমিন পার’-এর পর আমির খান যে ‘লালকারা’ সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন, সেটি লালা অমরনাথের জীবনকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হবে। ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের উত্তাল সময়কে পটভূমি করে তৈরি হতে যাওয়া সিনেমাটি পরিচালনা করবেন আশুতোষ গোয়ারিকার। ‘লগান’-এর প্রায় আড়াই দশক পর আবারও একসঙ্গে কাজ করছেন এ দুই তারকা।

তবে এ গল্পের শুরু আরও আগে। ২০১৮ সালে ‘জিরো’ ও ‘সঞ্জু’ মুক্তির পর রাজকুমার হিরানি নাকি শাহরুখ খানের কাছে লালা অমরনাথকে নিয়ে একটি বায়োপিকের প্রস্তাব দেন। ক্রিকেট, ইতিহাস এবং মানবিক আবেগের সমন্বয়ে গড়া এ গল্পে আগ্রহও দেখিয়েছিলেন শাহরুখ। কিন্তু নানা কারণে প্রকল্পটি আর বাস্তব রূপ পায়নি।

সে সময় বলিউডে বড় পরিবর্তন আসছিল। একদিকে শাহরুখ খান নিজের ক্যারিয়ারের নতুন দিক খুঁজছিলেন, অন্যদিকে হিরানি ব্যস্ত ছিলেন নতুন গল্প নিয়ে। এরপর আসে কোভিড-১৯ মহামারি, যা বহু সম্ভাবনাময় সিনেমার প্রকল্পের মতো এ উদ্যোগকেও থামিয়ে দেয়। পরে হিরানি শাহরুখকে ‘ডাঙ্কি’র গল্প শোনান। সে সিনেমায়ই দুজনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা বাস্তবায়িত হয় এবং ২০২৩ সালে মুক্তি পায় এটি।

এদিকে লালা অমরনাথ ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য নাম। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার আগে ভারতের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। দেশভাগের অস্থির সময়, ক্রিকেট মাঠের সংগ্রাম এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা অধ্যায় তাকে শুধু একজন ক্রীড়াবিদ নয়, বরং একটি সময়ের প্রতীক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই তার জীবন নিয়ে সিনেমা নির্মাণের আগ্রহ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল বলিউডের নির্মাতাদের।

সিনেমা-বাণিজ্য বিশ্লেষক তরণ আদর্শ ২০১৯ সালেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, রাজকুমার হিরানি একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে নিয়ে বায়োপিক তৈরির আলোচনা করছেন। আরও মজার বিষয় হলো, শাহরুখকে নিয়ে সিনেমাটি আর না হলেও রাজকুমার হিরানির সঙ্গে এ গল্পের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি। জানা গেছে, আমির খানের ‘লালকারা’য় চিত্রনাট্যকার হিসাবে রাজকুমার হিরানি ও তার দীর্ঘদিনের সহযোগী অভিজাত জোশির নাম থাকবে। ফলে পর্দার সামনে না হলেও, গল্পের ভেতরে হিরানির ছাপ স্পষ্টভাবেই থাকবে।