চলচ্চিত্রের পর্দায় সবকিছু নির্ভুলভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। কেবল রুপালি পর্দা নয়, ব্যক্তিগত জীবন, অন্যান্য কাজকর্মেও খুতখুতে! ফলে তার নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে—‘মি. পারফেকশনিস্ট’। তবে প্রেম ও বিবাহিত জীবনে নিখুঁত হতে পারেননি ‘দঙ্গল’ তারকা। আগামী (৫ জুলাই) তৃতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন আমির। স্বাভাবিক কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তার প্রেম জীবন।

প্রেম, বিয়ে, বিয়েবিচ্ছেদ নিয়ে অনেকবারই আলোচনায় এসেছেন আমির খান। একবার মজা করে তিনি বলেছিলেন, “আমার জীবন নিয়ে সিনেমা তৈরি হতে পারে। এতে আমার ভূমিকায় অভিনয় করবে ছেলে জুনাইদ।” সত্যিই এই অভিনেতার জীবনের গল্প সিনেমার চেয়ে কোনো অংশ কম নয়। আর রিনা দত্তের সঙ্গে প্রেম, বিয়ে আমিরের জীবনের অন্যতম আলোচিত অংশ।

প্রথমবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন আমির খান। দ্বিতীয় ও তৃতীয়বারের চেষ্টাতেও মেয়ের মন জয় করতে পারেননি। চতুর্থবার প্রেম নিবেদন করেও ব্যর্থ হন আমির। আর সেই মেয়েটি আর কেউ নন, আমিরের প্রথম স্ত্রী রিনা দত্ত। আমিরের পাশের বাড়িতেই থাকতেন রিনা। বাড়ির জানালাও ছিল পাশাপাশি। সেই জানালা দিয়ে প্রকৃতি দেখতে গিয়েই রিনার প্রেমে পড়েন এই অভিনেতা। 

১৯৯৯ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমির খান বলেন, “স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি সময় আমি জানালার কাছে কাটাতাম। এরপর আমি তাকে আমার ভালোবাসার কথা জানাই। আশা করেছিলাম, তারও আমার ব্যাপারে একই অনুভূতি হবে। কিন্তু জানতে পারলাম আমাকে সে ভালোবাসে না।”

রিনা দত্তর ভাবনা জানার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন আমির খান। তার ভাষায়, “আমি খুব ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিলাম না। কোনো বিষয়ে ‘না’ শুনতে রাজি নই। দুই দিন পর তার সঙ্গে আবার দেখা হয়। তখনো সে একই কথা বলে। এরপর জানালা থেকে সরে যেতে থাকি। এতটাই দুঃখ পেয়েছিলাম যে, তাকে ভুলে এবং তার কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতাম।”

নিজের রক্ত দিয়ে রিনা দত্তকে চিঠি লিখেছিলেন আমির খান। এই অভিনেতার ভাষায়, “মনে করেছিলাম তার প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা প্রকাশের এটিই একমাত্র মাধ্যম।” পরবর্তীতে আমিরের ভালোবাসার ডাকে সাড়া দেন রিনা দত্ত। কিন্তু তাদের প্রেমের পথ সুগম ছিল না। কারণ রিনা দত্ত ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। অন্যদিকে আমির মুসলিম। পরিবার তাদের সম্পর্ক কিছুতেই মেনে নেয়নি। পালিয়ে বিয়ে করাই একমাত্র পথ মনে করেন তারা। তারপর নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষা করেন।

১৯৮৬ সালের ১৮ এপ্রিল। আমির খানের বয়স ২১ বছর, অন্যদিকে রিনা দত্তর ১৯ বছর। কয়েকজন বন্ধুর সহযোগিতায় ম্যারেজ রেজিস্টার অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন এই জুটি। এরপর নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। কারণ রিনার পড়াশোনা তখনো শেষ হয়নি। আর আমিরও তখন খুব বেশি আয় করতেন না।

‘কেয়ামত সে কেয়ামত তাক’ সিনেমার পর তাদের প্রেমের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে থাকে। রিনা ও আমিরের দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তান—জুনাইদ ও ইরা। কিন্তু পরবর্তীতে সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে আমিরের প্রেমের গুঞ্জন রিনার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ২০০২ সালে এই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তবে বিচ্ছেদ নিয়ে তাদের কোনো তিক্ততা তৈরি হয়নি। এমনকি, এ বিষয়ে তারা কোনো কথাও বলেননি। এখনো তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। ঈদ উৎসব, আমিরের জন্মদিনের পার্টিতেও দেখা যায় রিনাকে।

রিনার সঙ্গে অটুট বন্ধনের কথা স্মরণ করে আমির খান বলেন, “রিনা আমার জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার পরিবারের অংশ এবং সবসময়ই থাকবে। আইনত আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে আমার যে বন্ধন তা এই সামান্য কাগজের কারণে শেষ হবে না।”

২০০৩ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমির খান বলেন, “রিনা ও আমি ১৬ বছর দাম্পত্য জীবন পার করেছি। আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি। আমরা যখন বিয়ে করি, তখন আমাদের বয়স অনেক কম ছিল। বিচ্ছেদটা দু’জনের জন্যই অনেক কঠিন ছিল। সম্পর্কটা আমাদের কাছে বিশেষ ছিল। এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমার দুই বছর লেগেছে। কারণ আমি খুবই আবেগপ্রবণ। যখন আমরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, রিনা ও আমি আগে বাচ্চাদের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি।”

আমির ও রিনা দত্তের বিবাহবিচ্ছেদ কেন হয়েছিল তা এখনো অজানা। রিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির খান। এ সংসারও ভেঙে গেছে। ধারণা করা হয়, কিরণ রাওয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে আমির-রিনার বিচ্ছেদ হয়।

*বলিউড শাদি ডটকম অবলম্বনে