ছাত্রজীবনেই অনলাইনে আম বিক্রি শুরু করেছিলেন জয়পুরহাটের মেহেদী হাসান বন্ধন। ঢাকায় পড়ালেখার পাশাপাশি চাকরি করার সময় ২০১৮ সালে অনলাইনে আম বিক্রি শুরু করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করে কারও কাছে ৫ কেজি কারও কাছে ১০ কেজি আম বিক্রি করতেন। সময়ের সঙ্গে সেই ছোট উদ্যোগই পরিণত হয়েছে পেশায়। পড়ালেখা শেষে গ্রামে ফিরে ‘রাজশাহী অর্গানিক ফুডস’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
শুধু মেহেদী হাসান নন, তার মতো অসংখ্য তরুণের হাত ধরে দেশের অনলাইন ফল ব্যবসা ধীরে ধীরে আরও বেশি জনপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী, অনলাইনে ফল বিক্রির সঙ্গে প্রায় ২০ হাজার উদ্যোক্তা জড়িত। চাঁপাইনবাবগঞ্জেই প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার তরুণ-তরুণী অনলাইনে আম বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টন আম অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বছরে এক হাজার টন ফলও অনলাইনে বিক্রি করছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো কোনোটিতে সারা বছরই অন্তত ৫০ জন থেকে ১০০ জনের কর্মসংস্থান হচ্ছে।
অনলাইনে আম বিক্রি করছে বহু প্রতিষ্ঠান, সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থান, ছবি: ম্যাঙ্গো লাভারের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া
ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ম্যাংগো লাভার, প্রিমিয়াম ফুডস, বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক, রাজশাহী অর্গানিক ফুডস, নাহিদ’স ওয়ার্ল্ড, সেরা খাবার, মশাল বাজার, হেল্পফুল শপ ফুডসসহ অসংখ্য পেজে এখন আমসহ নানা ফল বিক্রি হচ্ছে। ‘ফলের পাইকারি বাজার’সহ বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপেও আমসহ বিভিন্ন ফল বিক্রি হচ্ছে। এসব পেজ ও গ্রুপে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে নানান ধরনের আম বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে নানান ধরনের ফল বিক্রি হলেও বর্তমানে শুধু আমই বিক্রি হচ্ছে। অনলাইন পেজ ও গ্রুপে সবচেয়ে বেশি আমই বিক্রি হয়।
মেহেদী হাসান বন্ধন অনলাইনে ফল বিক্রির পাশাপাশি বর্তমানে কাজ করছেন ফ্রিল্যান্সিংয়ে। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি শেষ করেছেন।
আরও পড়ুন
বাজারে আমের বেচাকেনা কম, অনলাইনে চাঙ্গা
চাকরি না পেয়ে উদ্যোক্তা হলেন নাঈম, ড্রাগনেই বাজিমাত
জাগো নিউজকে মেহেদী হাসান বন্ধন বলেন, ‘ছাত্র অবস্থায় ২০১৮ সালে আমি অনলাইনে আম বিক্রি শুরু করি। তখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম নিতাম। লটে লটে আম নিয়ে ভেঙে বিক্রি করতাম। কারও ১০ কেজি, কারও ২০ কেজি, এমনকি ঢাকায় ৫ কেজি করে আমও বিক্রি করেছি। পরে ২০২২ সালে গ্রামে চলে আসি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসার পরে এখানে বিভিন্ন বাগানির সঙ্গে চুক্তি করি। চুক্তি হওয়ার পর এখন বাগান থেকেই ক্রেতার হাতে আম পৌঁছে দিচ্ছি। মৌসুমে আমার দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাভ হচ্ছে। এ কাজে আমার সঙ্গে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জনের মৌসুমভিত্তিক কর্মসংস্থান হয়েছে।’
মেহেদী হাসান বন্ধন বলেন, ‘ডেলিভারি চার্জসহ ১০০ টাকা কেজিতে আম বিক্রি করি। বছরে ২০০ থেকে ৩০০ মণ আম বিক্রি করতে পারি।’
প্রিমিয়াম ফ্রুটসের প্রতিষ্ঠাতা উম্মে কুলসুম পপি ও আবু সাঈদ আল সাগর, ছবি: প্রিমিয়াম ফ্রুটসের ফেসবুক পেজ
অনলাইনে আম বিক্রির শীর্ষ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রিমিয়াম ফ্রুটস অন্যতম। রংপুরের বিখ্যাত ‘লাল মাটির হাড়িভাঙ্গা আম’ বিক্রির মাধ্যমে ২০২১ সালে শুরু হয়েছিল প্রিমিয়াম ফ্রুটসের যাত্রা। এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর উম্মে কুলসুম পপি ও তার স্বামী আবু সাঈদ আল সাগর।
প্রিমিয়াম ফ্রুটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ আল সাগর জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা পাঁচ বছর ধরে অনলাইনে আম, ড্রাগন, মাল্টাসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ফল বিক্রি করছি। বর্তমানে বছরে প্রায় এক হাজার টন ফল বিপণনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করি। এর মধ্যে শুধু আমই মৌসুমভেদে ৫০০ টনের বেশি বিক্রি হয়। উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে কোনো বছর লক্ষ্য অতিক্রম করে, আবার কোনো বছর কিছুটা কম হয়।’
তিনি বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নিয়মিত প্রায় ৫০ জন কর্মী কাজ করছেন। এছাড়া মৌসুমভিত্তিক আরও ২০০ থেকে ২৫০ জন বিভিন্নভাবে যুক্ত থাকেন। ফলে অনলাইন ফল ব্যবসা শুধু কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের নতুন সুযোগই তৈরি করেনি, বরং কর্মসংস্থানের বড় একটি ক্ষেত্র হয়েছে।’
আরও পড়ুন
অনলাইনে কেনাবেচার ছোঁয়া লেগেছে খাগড়াছড়িতেও
আমের চেয়ে বেশি খরচ ক্যারেট-পরিবহনে, বিপাকে চাষিরা
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও নওয়াবি ম্যাংগোর স্বত্বাধিকারী ইসমাইল খান শামীম জাগো নিউজকে বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন আম কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ই-কমার্স চ্যানেলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাজারজাত করা হচ্ছে। গত বছর দৈনিক প্রায় ৪০০ মেট্রিক টন আম অনলাইনে বিক্রি হয়েছিল, আর চলতি মৌসুমে সেই পরিমাণ আরও বেড়েছে।’
শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম, ছবি: নওয়াবি ম্যাংগোর ফেসবুক পেজ
ইসমাইল খান শামীম বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জেই প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার তরুণ-তরুণী অনলাইনে আম বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। আর সারা দেশে এ খাতে প্রায় ২০ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা কাজ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ, কুরিয়ার নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার কারণে অনলাইন ফল ব্যবসা এখন একটি সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইনে আম বিক্রি শুধু উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেনি, বরং আম উৎপাদন, সংগ্রহ, প্যাকেজিং, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি এখন আমরা আমের প্রক্রিয়াজাত পণ্য, বিশেষ করে ড্রাই ম্যাংগো উৎপাদনের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছি, যা দেশের আম খাতের মূল্য সংযোজন বাড়াতে সহায়ক হবে।’
বরেন্দ্র এগ্রো পার্কের কৃষি উদ্যোক্তা মো. সোহেল রানা, ছবি: সোহেল রানার ফেসবুক
জানতে চাইলে নওগাঁর সাপাহারে অবস্থিত বরেন্দ্র এগ্রো পার্কের কৃষি উদ্যোক্তা মো. সোহেল রানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি ২০১৪ সালের শেষ দিকে বাণিজ্যিকভাবে আমের খামার শুরু করি। তখন অনলাইন মার্কেটিং বা কুরিয়ার সেবার বর্তমান অবস্থা ছিল না। এরপর সুন্দরবন কুরিয়ারের মাধ্যমে বাগানের আম অনলাইনে বিক্রি শুরু করি। বর্তমানে আমার উৎপাদিত আমের প্রায় ১০ শতাংশ অনলাইনে বিক্রি হয়, যা মৌসুমভেদে ৫০ থেকে ৬০ টনের মতো।’
তিনি বলেন, ‘অনলাইনভিত্তিক আম ব্যবসা এখন অনেক বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ-তরুণীরা নিজস্ব বাগান না থাকলেও মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আম বিক্রি করে ভালো আয় করছেন। এ খাত কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং অনেক তরুণ মৌসুমি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পাচ্ছেন।’
আরও পড়ুন
আমের লাভ গিলে খাচ্ছে ক্যারেট
২ জাতের আম চাষ করে বছরে আয় ২০ লাখ টাকা
প্রতিবন্ধকতা এখনও কুরিয়ার সার্ভিস
অনলাইনে ফলের ব্যবসায় এখনও প্রধান প্রতিবন্ধকতা পরিবহন ও কুরিয়ার সার্ভিস। সঠিক সময়ে পণ্য না পেয়ে ক্রেতারা বিড়ম্বনায় পড়েন। আর বিক্রেতারা থাকেন ফল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে।
জানতে চাইলে প্রিমিয়াম ফ্রুটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ আল সাগর বলেন, ‘কুরিয়ার ও পরিবহন খাতে সময়ক্ষেপণ, অতিরিক্ত ব্যয় এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সুবিধাসম্পন্ন যানবাহনের অভাবে ফলের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমের মতো পচনশীল পণ্য দ্রুত ও নিরাপদে সরবরাহ নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সরবরাহ চেইনের উন্নয়ন এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে অনলাইন ফল ব্যবসা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।’
এ বিষয়ে কৃষি উদ্যোক্তা মো. সোহেল রানা বলেন, ‘অনলাইন ফল ব্যবসার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখনো পরিবহন ও কুরিয়ার সেবা। আমের মৌসুমে কুরিয়ার কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, কিন্তু সেই অনুযায়ী তাদের সক্ষমতা বাড়ে না। ফলে ডেলিভারিতে বিলম্ব হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আমের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উন্নত দেশগুলোর মতো পচনশীল কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়েন। পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা গেলে অনলাইন ফল ব্যবসা আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষক ও উদ্যোক্তারা বেশি লাভবান হবেন।’
ক্রেতার কাছে কুরিয়ারে আম পাঠানোর জন্য প্যাকেজিং করা হচ্ছে, ছবি: সেরা খাবারের ফেসবুক পেজ
অনলাইনে কত টাকার ফল বিক্রি হয়?
দেশে অনলাইনে কত টাকার ফল বিক্রি হয়- এ বিষয়ে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেই এক মৌসুমে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার আম অনলাইনে বিক্রি হয়। এলাকাটি থেকে প্রতিদিন ৪৫০ টন ধরে আমের মৌসুমের ৯০ দিনে ৪০ হাজার ৫০০ টন আম বিক্রি হতে পারে। প্রতি কেজির গড় মূল্য ১২০ টাকা ধরলে এ বাজার প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার। অর্থাৎ বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেই ৫০০ কোটি টাকার আম অনলাইনে বিক্রি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ফল যুক্ত করলে অনলাইন ফল ব্যবসার আকার কয়েক হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
আরও পড়ুন
চাঁদপুরে ৭৫ জাতের বিদেশি আম চাষে সফল হেলাল উদ্দিন
শখের বশে নার্সারি / বছরে ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেন কবির হোসেন
যা বলছেন কৃষি কর্মকর্তা ও ই-ক্যাবের নেতা
অনলাইনে ফল বিক্রি ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে অনলাইনে ফল কেনাবেচা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী অবসর সময়ে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আয় করছেন। শুধু নওগাঁর সাপাহারের একটি হাট থেকেই বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা এ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। অনলাইন ফল বিক্রিকে কেন্দ্র করে কুরিয়ার সার্ভিস, প্যাকেজিং, লোডিং-আনলোডিংসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থের প্রবাহও বাড়ছে। তবে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি থাকায় অনেক সময় ভোক্তারা প্রত্যাশিত পণ্য পান না। তাই এ খাতের সুষ্ঠু তদারকি প্রয়োজন। তরুণদের সম্পৃক্ততা কাজে লাগিয়ে অনলাইন ফল ব্যবসাকে বাণিজ্যিকভাবে আরও সংগঠিত করা গেলে এটি ভবিষ্যতে একটি বড় শিল্পে পরিণত হবে।’
জানতে চাইলে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাবের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘করোনা মহামারির সময় আমচাষিদের উৎপাদিত আম বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। সে সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে অনলাইনে ফল বিক্রির একটি কার্যকর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে সেই উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এখন দেশের উৎপাদিত আমের একটি বড় অংশ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।’
গাছে ঝুলছে ব্যানানা ম্যাঙ্গো। ক্যারেটে ভরে তা পাঠানো হবে ক্রেতার কাছে, ছবি: সংগৃহীত
তিনি বলেন, ‘এখন অনলাইনে অনেক ছোট ছোট উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থী মৌসুমের সময় ফল বিক্রি করেন। এতে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে। আর অনলাইনে ফল বিক্রির ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ডেলিভারি ব্যবস্থা, প্যাকেজিং ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার উন্নয়ন ঘটছে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করছেন, যা ভবিষ্যতে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণেও সহায়তা করবে। আমি মনে করি, এই অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে বাংলাদেশ থেকে আমসহ বিভিন্ন ফলের রপ্তানি ব্যাপক হারে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।’
করোনাকালে শুরু হওয়া অনলাইন ফল বিপণন এখন মৌসুমি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন আয়ের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। একই সঙ্গে প্যাকেজিং, কুরিয়ার, পরিবহন ও ডিজিটাল পেমেন্ট খাতেও কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে এই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে।
ইএইচটি/এমএমএআর/ এমএফএ








