২০২৪ সালের জুলাই মাসটি ছিল অপ্রতিরোধ্য মুহূর্তের সাক্ষী। টানা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ১০ জুলাই দাবি আদায়ে ঢাকাসহ সারা দেশে রাজপথে নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা; ফলে সারা দেশে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। এদিন দুপুরের দিকে কোটাপদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন আপিল বিভাগ। কিন্তু শিক্ষার্থীরা স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এদিন সকাল ১০টায় শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করেন। এরপর বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেন। সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, ‘একাত্তরের পথ ধর, বাংলা ব্লকেড সফল করো’, ‘দফা এক, দাবি এক, কোটা নট কাম ব্যাক’, ‘সংবিধানের/মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটাপ্রথার কবর দে’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’।
সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা কলেজের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেন। এর ফলে এ এলাকার সব প্রধান ও শাখা সড়ক বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা ১১টার দিকে মহাখালীর আমতলীতে তিতুমীর কলেজসহ অন্যসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। আগারগাঁও মোড় অবরোধ করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। রামপুরা এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
এদিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও মুক্তিযুদ্ধ সংসদ সন্তান কমান্ডসহ কোটার পক্ষের বেশ কয়েকটি সংগঠন। মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল ও কটূক্তির বিচারের দাবিতে তারা সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য হয়ে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ-মিছিল করেন তারা। তারা ৭ দফা দাবি জানান।
সকাল ১০টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ জট লাগে। ঢাকার বাইরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের চৌদ্দপাই এলাকার বাইপাস অবরোধ করেন। দুপুর ১টায় রাবির প্রধান ফটক থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বাইপাসে অবস্থান নেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর দেওয়ানহাট এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১টা ২০ মিনিটে তারা নগরীর টাইগারপাস ও দেওয়ানহাট ব্রিজ সড়কে অবস্থান নেন। বেলা ১১টায় মহাসড়ক অবরোধ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী কবিতা, গান, গীতিনাট্য ও অভিনয়ের মাধ্যমে বৈষমামূলক কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবি জানান।
বেলা ১১টায় প্রধান ফটকের সামনে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমবেত হন। মানববন্ধন শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপাশে বহু যানবাহন আটকা পড়ে।








