২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দিয়ে আন্দোলন ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি দিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর রায় ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এদিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার তিনটি অভিযোগে হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে সাজা একত্রে চলবে বলে তাকে ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।
ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা করা হয়। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাসদের প্রধান হিসেবে ইনু গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঊর্ধ্বতন অবস্থান থেকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, প্ররোচনা ও উসকানিতে ভূমিকা রাখেন।
আরও পড়ুন
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
তিনি জানান, প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক গণমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনু আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দেন এবং তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি দেন।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৪-দলীয় জোটের বৈঠকে ইনু উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে আন্দোলন দমনে সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নীতির মাধ্যমে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ইনু প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেন।
তৃতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ জুলাই ইনু কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের তালিকা তৈরি এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় ১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। আহত ও আটক হন আরও অনেকে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালে আনা বাকি অভিযোগগুলোতেও ইনুর বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারে উসকানি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সমন্বয়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে সমর্থন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এফএইচ/এসএইচএস








