বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ষষ্ঠবারের মতো নদীগর্ভে বিলীন হওয়া শতবর্ষী চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস। পরিদর্শনকালে তিনি বিদ্যালয়টির নতুন স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য দ্রুততম সময়ে নিরাপদ জায়গা নির্ধারণের আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার একটি চেক হস্তান্তর করেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টি গত ১৬ মে ষষ্ঠবারের মতো যমুনার পেটে বিলীন হয়। এরপর থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর একটি অস্থায়ী টিনের চালার নিচে অত্যন্ত কষ্টকর পরিবেশে দুই শিফটে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষকরা। ৪৮২ জন শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে ভাঙনের মুখে এখন টিকে আছে মাত্র ৭৪ জন। এই মানবিক সংকটের খবরটি প্রকাশের পর আজ বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যান ইউএনও।

সারিয়াকান্দি ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, ‌‘নদীভাঙনের শিকার স্কুলটির পাঠদান সাময়িকভাবে বাঁধের ওপর চলছে। আমরা স্কুলটি অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য নতুন জমি পরিদর্শন করেছি। তবে চরের ওই প্রস্তাবিত জায়গাটি কিছুটা নিচু এবং নদীর একদম কাছাকাছি হওয়ায় একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আশা করছি আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে উপযুক্ত নিরাপদ জায়গা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন

৬ বার নদীগর্ভে বিদ্যালয়, তবু নেভেনি শিক্ষার আলো

ইউএনও আরও জানান, নতুন জায়গা চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই সেখানে মাটি ভরাটের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের এই দ্রুত তৎপরতা এবং আর্থিক সহযোগিতার পর বিদ্যালয়টি আবার নতুন রূপ পাওয়ার আশা দেখছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। প্রতিবেদন প্রকাশের পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাও বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে দ্রুত সরকারি বরাদ্দের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিন্নাহ আলম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সংবাদটি গণমাধ্যমে আসার পর আমাদের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শন করেছেন এবং অতিদ্রুত সরকারি বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন। আজ ইউএনও এসে নতুন করে স্কুলটি স্থাপনের জন্য মাটি ভরাটের দায়িত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি নগদ ২০ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করেছেন। এতে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার একটা স্থায়ী সুব্যবস্থা হবে বলে আশা করছি।’

এলবি/এসআর/এমএস