ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেলের ঘাটারচর এলাকায় স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের একটি পিকআপভ্যান চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে বিক্ষোভ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুসসহ অন্তত ২০ জন শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের একটি পিকআপভ্যান ঘাটারচর এলাকা থেকে চুরি হয়। পরে পিকআপটি মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পিকআপচালক শাহ আলমকে ডেকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকেল থেকে কয়েক'শ পিকআপচালক ও শ্রমিক ঘাটারচর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। রাতভর শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। উত্তেজিত শ্রমিকেরা প্রায় অর্ধশতাধিক পিকআপ ও অফিস ভাঙচুর করেন।
সংঘর্ষের সময় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া সংঘর্ষে আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন শ্রমিকেরা।
আহত চালক শাহ আলমের ভাই রাসেল অভিযোগ করে বলেন, গাড়ি চুরির ঘটনায় তাঁর ভাইকে অন্যায়ভাবে দায়ী করে অফিসে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদেই শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামেন।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশ কোম্পানির পক্ষ নিয়ে তাদের ওপর লাঠিপেটা, টিয়ার শেল এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। তবে পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আত্মরক্ষার স্বার্থেই তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের এজিএম (অ্যাডমিন) কাজল সুফিয়ান বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে একটি চক্র তাদের প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তাদের প্রাথমিক ধারণা, পিকআপভ্যান চুরির ঘটনায় সংঘবদ্ধ কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পিকআপভ্যান চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালিকপক্ষ ও চালকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনিসহ অন্তত ২০ জন শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে আজ মঙ্গলবারও সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আরাফাতুল ইসলাম জানান, শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনাটি ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।
সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, শ্রমিকদের কয়েকটি দাবি মেনে নিয়েছে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকেরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন এবং বর্তমানে ঘাটারচর এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।








