চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মো. আরিফুল ইসলাম (২৯) নামে এক পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. শিবলু (২৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত ১ জুন এ ঘটনায় আনোয়ারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আরিফুল ইসলাম। তিনি ঢাকার রাজারবাগ ডিএমপি ওয়েলফেয়ার এন্ড ফোর্সে কর্মরত। অভিযোগের পর থেকে তাঁর পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বলে জানান তিনি।
মো. আরিফুল ইসলাম চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের হেটিখাইন এলাকার আবদুল জলিলের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ মা, দুই বোন, স্ত্রী ও সন্তান আতঙ্কে রয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে আরিফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গত ৩১ মে সকাল সাড়ে ৯টায় একই এলাকার নাছির মেম্বারের বাড়ির আবুল হাসেমের ছেলে মো. শিবলু (২৮) পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁর বাড়ির পাশের পথে আটকিয়ে বেধড়ক মারধর করেন এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। এরপর থেকে ফেসবুকে অনুমতি ছাড়াই তাঁর ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগে বলা হয়।
আরিফুল বলেন, ‘ শিবলুর কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। দিনের বেলা কোন রকমে পার করলেও রাত নামলেই আমার পরিবারসহ এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়, ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না। প্রতিবাদ করলে তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন, বাড়িতে হামলা। ঘরের আমার বৃদ্ধ মা, ছোট বোন, আমার স্ত্রী-সন্তানরা রাতে ঘুমাতে পারে না ভয়ে। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে আমার পরিবারের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা চাচ্ছি।’
আরিফুল আরও বলেন, ‘শান্ত এলাকায় অস্ত্র-ইয়াবা কিভাবে আসলো আর অর্থদাতা কে, জানিনা। এসব সন্ত্রাসীদের কারা প্রশ্রয় দিচ্ছে তাদেরও আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যের মা দিলোয়ারা বেগম রুবি (৫৫) বলেন, ‘শিবলুর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। এটার পর পুলিশ তাকে ধরতে এলাকায় আসে। এরপরই আমার ছেলে বাড়িতে ছুটিতে আসলে শিবলু তাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর এটা নিয়ে থানায় ও এলাকায় একাধিক বৈঠক হয়। কিন্তু তাতে কোনো সমাধান হয়নি। আমার একটা মাত্র ছেলে ভয়ে আসতে পারে না বাড়িতে। ৮ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছি, ঘরের মধ্যে ভয়ে বাস করছি আমরা।'
জানা গেছে, আনোয়ারায় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বখাটেদের দুই দফা হামলার ঘটনায়ও মো. শিবলুর বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তিনি এক নম্বর আসামি। এর আগে চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের মামলায়ও ৬৯ নম্বর আসামি তিনি।
অস্ত্র ও গুলি হাতে মো. শিবলুর একটি ভিডিও গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কিছুদিন পলাতক থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু নেতার আশ্রয়ে এলাকায় কিশোর গ্যাং সৃষ্টি ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘শিবলুকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।’







