নব্বই দশকের ঢালিউডের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী রুমানা ইসলাম মুক্তি। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘চাঁদের আলো’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকহৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন তিনি। এ বছর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পীসমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন তিনি। নবীন-প্রবীণদের নিয়ে গড়েছেন আরমান-মুক্তি পরিষদ। নির্বাচনি প্রচারণা, কাজ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
জাগো নিউজ : শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন?
মুক্তি : আমার মা আনোয়ারা বেগম এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। অসুস্থ হওয়ার আগপর্যন্ত কাজ করেছেন। আমি নিজে এখানে বড় হয়েছি। চলচ্চিত্র আমার ঘরবাড়ির মতো। মায়ের হাত ধরে এফডিসির অলিগলি হেঁটেছি। মায়ের ইচ্ছে ছিল সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার। কিন্তু দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কার্যনির্বাহী পরিষদে থাকলেও বড় পদে লড়ার সুযোগ পাননি। তার ইচ্ছে আমাকে দিয়ে পূরণ করতে চান।
জাগো নিউজ : আপনি কি ভোট পাবেন?
মুক্তি : গত দুই বছরে সমিতিতে আমার উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের আস্থা তৈরি করেছে। শুধু মায়ের ইচ্ছেতে নয়, ভোটারদের আগ্রহের কারণেও নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্বাচিত হলে শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করব। মোটকথা সমিতিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যেতেই আমার নির্বাচনে অংশ নেওয়া।
জাগো নিউজ : নির্বাচিত হলে আপনার অগ্রাধিকার কী হবে?
মুক্তি : নতুন কমিটি ও নবীন-প্রবীণদের পরামর্শ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো শুরুতে সমাধানের জন্য কাজ করব। প্রবীণ ও কর্মহীন শিল্পীদের জন্য স্থায়ী ভাতার চেষ্টা থাকবে। যারা সিনেমা নির্মাণ করছেন, তাদের অনুরোধ করব, আমাদের শিল্পীদের কাজে নেওয়ার জন্য। সেইসঙ্গে নতুন শিল্পী তৈরির জন্য অভিনয়ের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করব। আরও কিছু পরিকল্পনা আছে, যেগুলো এখনই বলতে চাই না।
মুসলমানদের জেরুজালেম জয় / বাংলায় আসছে ‘সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি’
জাগো নিউজ : সাধারণ শিল্পীদের জন্য বিশেষ কোনো পরিকল্পনা?
মুক্তি : অবশ্যই আছে। আমি নির্বাচিত হলে সাধারণ শিল্পীদের চিকিৎসা বিমা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেব। এছাড়া শিল্পীরা যাতে সুশৃঙ্খল পরিবেশে কাজ করতে পারেন এবং সঠিক সময়ে তাদের পারিশ্রমিক পান, সে বিষয়ে প্রযোজক ও পরিচালকদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নীতিমালা তৈরি করব। প্রায় সময়ই গণমাধ্যমে জানতে পারি, অনেক সিনিয়র শিল্পী এখনো তার পারিশ্রমিক পাননি। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও তার পাওনা টাকার জন্য আক্ষেপ করতে হচ্ছে। এ বিষয়গুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখব। সবার আগে সমিতির সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে আমাদের প্রথম কাজ।
জাগো নিউজ : আপনার মা আনোয়ারা বেগম ঢাকাই চলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তিতুল্য অভিনেত্রী। আপনার পথচলায় মায়ের অনুপ্রেরণা কতটা?
মুক্তি : মা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয় এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সাধারণ শিল্পীরা যখন আমাকে দেখে বলেন, ‘তুমি আনোয়ারা আপার মেয়ে, তোমার ওপর আমাদের ভরসা আছে’, তখন দায়িত্ববোধ বেড়ে যায়। মায়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখাই আমার প্রধান লক্ষ্য।
জাগো নিউজ : চলচ্চিত্রের বর্তমান মন্দাভাব কাটাতে শিল্পীসমিতি কী করতে পারে?
মুক্তি : শিল্পীসমিতিকে শুধু নির্বাচন আর ইফতার মাহফিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সিনেমা হলের সংখ্যা বাড়াতে এবং ভালো মানের কনটেন্ট তৈরিতে সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলাপ করতে হবে। শিল্পীদের কাজের সুযোগ তৈরি না হলে শুধু সমিতির অনুদান দিয়ে শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব না। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা সিনেমার সংখ্যা বাড়াতে উদ্যোগী ভূমিকা নেব। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া সিনেমার উন্নয়ন সম্ভব নয়। আধুনিক সিনেমা হল নির্মাণে সরকারি সহযোগিতা জরুরি। সেইসঙ্গে যেসব সিনেমা হল আছে, সেগুলো আধুনিক করার আহ্বান জানাবো।
যে কারণে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে লড়ছেন অভিনেত্রী নূতন
জাগো নিউজ : ভোটার ও সাধারণ শিল্পীদের কী মেসেজ দেবেন?
মুক্তি : আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে। কোনো সস্তা প্রলোভন বা ফাঁকা বুলি দিতে আসিনি। আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। আমি জিতলে জিতে যাবে আমার মা। আমার মায়ের স্বপ্ন ও মানসম্মান ভোটারদের হাতে। তাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, একজন যোগ্য, সৎ এবং কাজের মানুষকে বেছে নিন। জয়-পরাজয় যাই হোক, আমি সবসময় শিল্পীদের পাশেই থাকব।
এমআই/আরএমডি








