ইসলামের আমলসমূহ প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত—আল্লাহর হক ও বান্দার হক। ইসলামের ফরজ ও হারাম বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অল্প কিছু আমল কেবল আল্লাহর হকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট; আর সিংহভাগ বিষয়ই মানুষের অধিকার বা হকের সঙ্গে জড়িত। ইসলাম মানুষের সামগ্রিক মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ তাগিদ দিয়েছে।

মানুষের ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো অপরের অধিকার রক্ষা করা। ইসলামে মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যখন আল্লাহর দরবারে তওবা করে, তখন যদি কারও অধিকার তার দায়িত্বে থাকে, যতক্ষণ না সে তাকে রাজি করাবে, ততক্ষণ তার তওবা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।’ (সহিহ মুসলিম)

কোনো বান্দা অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাঁর নিজের হক মাফ করে দিতে পারেন, কিন্তু বান্দার হক তথা অন্যের অধিকার হরণকারীর অপরাধ আল্লাহ নিজে ক্ষমা করেন না। এর জন্য অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে।

দুনিয়াতে যারা অপরের প্রতি জুলুম, অত্যাচার করেছে, সম্পদ ও সম্মানে আঘাত করেছে, কিয়ামতের দিন তাদের অত্যন্ত কঠিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় (মুফলিস) ব্যক্তির পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন—ওই ব্যক্তি কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা, জাকাতসহ অনেক ভালো কাজ নিয়ে উপস্থিত হবে; অথচ দুনিয়াতে সে কাউকে গালি দিয়েছিল, কারও প্রতি অপবাদ দিয়েছিল, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছিল বা কারও রক্তপাত ঘটিয়েছিল। ফলে বিচার দিবসে তার নেক আমলগুলো থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। একপর্যায়ে নেক আমল শেষ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের পাপসমূহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সহিহ মুসলিম: ২৫৮১)

ইসলাম সমাজে মুসলমানদের দুর্বল বা কাপুরুষ হিসেবে দেখতে পছন্দ করে না। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুর্বল মুমিনের চেয়ে সবল মুমিন শ্রেষ্ঠ আর আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়।’ (সহিহ মুসলিম ২৬৬৪)। তাই জালিম ও প্রভাবশালীরা যেন কারও সম্পদ বা হক নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে জন্য নিজের অর্জিত সম্পদের সুরক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।

হাদিস অনুযায়ী, নিজের সম্পদ ছিনতাইকারীর হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে লড়াই করে যদি কেউ মারা যায়, তবে সে ‘শহীদ’ হিসেবে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে, অন্যায়ভাবে অন্যের অধিকার বা জমি আত্মসাৎ করার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এক বিঘত পরিমাণ জমি চুরি বা জোরপূর্বক দখল করলে কিয়ামতের দিন সাত তবক জমি অপরাধীর গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। (জামে তিরমিজি: ১৪১৮)