চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পানিবন্দী ৫০ পরিবারের হাতে গতকাল খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা।
‘প্রথম আলো আর বন্ধুসভার জন্য অনেক অনেক দোয়া। একটু ভেতরে হওয়ায় আমাদের এখানে ত্রাণ দিতে আসেনি কেউ। এই প্রথম কেউ আমাদের হাতে ত্রাণ দিল। আপনারা ছাড়া ত্রাণ দিতে আসেনি কেউ। এ সময়ে যাঁরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ’—কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উত্তর বাগমারার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনূস।
গতকাল সোমবার প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা তাঁর হাতে তুলে দেন খাদ্যসামগ্রীর একটি প্যাকেট। এতে ছিল মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট, মোমবাতি, খাওয়ার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, গুড়সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
শুধু মোহাম্মদ ইউনূস নন, এদিন উপজেলার পানিবন্দী হয়ে থাকা ৫০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। এর আগে গত রোববার উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে ৫০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ তুলে দেন বন্ধুসভার বন্ধুরা।
গতকাল দিনভর বন্ধুসভার বন্ধুরা কাথারিয়া ইউনিয়নের উত্তর বাগমারা গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। এলাকার বাসিন্দারা জানান, বাড়িঘরে এখনো পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেকের রান্নাঘর ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কর্মক্ষম ব্যক্তিরা কাজে যেতে পারছেন না। এতে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকটও।
উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের উত্তর দিকে অবস্থিত সোনাইছড়ি খাল। এর পাশেই পরিবার নিয়ে থাকেন করিম উদ্দিন। টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্টি হওয়া বন্যায় ডুবেছে তাঁর ঘর। পানি কমতে শুরু করলেও এখন শুকনা খাবারের সংকটে রয়েছে তাঁর পরিবার। ত্রাণ পেয়ে করিম উদ্দিন বললেন, ‘কখনো ভাবিনি আমাকেও ত্রাণ নিতে হবে; কিন্তু প্রকৃতির কাছে আমরা আসলেই অসহায়।’
বন্যার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭২০০০০১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। অথবা বিকাশে পেমেন্ট করতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপের ডোনেশনের মাধ্যমেও আপনার সহযোগিতা পাঠাতে পারেন।
নাম প্রকাশ না করে একাধিক ব্যক্তি দিয়েছেন ২৪ হাজার ২৭ টাকা। চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সদস্যরা দিয়েছেন ১৯ হাজার ২৭৬ টাকা। মোট টাকা ৪৩ হাজার ৩০৩।







