অনুরাগীরা হয়তো বলবেন, ‘যেও না সাথী। চলেছো একলা কোথায়...।’ বোদ্ধারা বলবেন, ‘আমার বলার কিছু ছিল না। চেয়ে চেয়ে দেখলাম, তুমি চলে গেলে...।’ আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কী বলবেন? বলবেন মানে, তিনি তো বলেই দিয়েছেন, ‘আমি অন্তত তিনটি ট্রফি এনে দিয়েছি পর্তুগালকে। আমার আগে একটি শিরোপাও জিততে পারেননি কেউ।’ তার এমন মন্তব্যকে যদি স্পর্ধা মনে করেন, সেটি আপনার সমস্যা। পরক্ষণে তার উচ্চারণে আপনার আফসোস হবে-‘এভাবে বিশ্বকাপ শেষ করে যাওয়ায় খারাপ লাগছে। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। সামর্থ্যরে শেষ বিন্দু দিয়ে লড়াই করেছি। নিজের বিবেকের কাছে সৎ থেকে বিশ্বকাপ শেষ করলাম।’

শেষ করলেন শূন্যতায়। হতাশায়। আগের পাঁচবার যেমন করেছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০২৬-ছয়টি বিশ্বকাপ তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে খালি হাতে। অপূর্ণতাই পূর্ণতা। জীবনের মতো ফুটবলেও কথাটা ভীষণভাবে প্রযোজ্য। প্রকৃতি অপূর্ণতা এজন্যই দেন, যাতে পূর্ণতার মাহাত্ম্য অনুধাবন করা যায়। রোনাল্ডো এখন হতাশা-হাহাকার একপাশে সরিয়ে রেখে পরিবারকে সময় দেবেন। তাড়াহুড়া করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। সিদ্ধান্ত মানে, বেলা শেষে অবসরের বারান্দায় পায়চারি করবেন কি না।

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে সোমবার রাতে ডালাসে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে পর্তুগালের পথচলা থেমেছে। এরপরই প্রশ্ন, ‘টু বি অর নট টু বি।’ রোনাল্ডো পর্তুগালের জার্সিতে খেলা চালিয়ে যাবেন, না থামবেন। এখন তার বয়স ৪১। পরের বিশ্বকাপে তিনি যে দর্শকাসনে বসবেন, এটা তো জানাই। সিদ্ধান্তটা তাকেই নিতে হবে। ২০১৬ ইউরো, ২০১৯ ও ২০২৫ নেশন্স লিগজয়ী রোনাল্ডোর অহং-তিনি তিনটি ট্রফি উপহার দিয়েছেন তার দেশকে, ‘আমার আগে অন্যরা একটি খেতাবও জিততে পারেননি।’ তার কাছে ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয় বিশ্বকাপ জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০১৬ ইউরো জয় রোনাল্ডোর কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন। সেই স্মৃতি সারা জীবন তার সঙ্গে থাকবে। থাক বিশ্বকাপ অধরা। তাতে কী এসে-যায়। ওই যে কথাটা-অপূর্ণতাই পূর্ণতা!