বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সহকর্মীর কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার (এসি) মো. সোহেল উদ্দিন প্রিন্সকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার ইভা শুনানি শেষে তার জামিন বাতিল করে এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার বাদী সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী আদালতে আসামির জামিন বাতিলের আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৯ আগস্ট আপস করার শর্তে সোহেল জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বাদীর সঙ্গে কোনো মীমাংসা করেননি এবং আত্মসাৎ করা অর্থও ফেরত দেননি। বাদীর আইনজীবীর এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামির আগের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ৩৬তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পর সোহেল ও তানজিনার মধ্যে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সোহেল বিভিন্ন সময়ে তানজিনার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ ১১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর সোহেল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত দিতেও অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর তানজিনা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জুন একই আদালত সোহেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম খান আদালতে দাবি করেন, সোহেল কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি। তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
এই প্রতারণা মামলা ছাড়াও পুলিশ কর্মকর্তা সোহেলের বিরুদ্ধে তার প্রথম স্ত্রীর করা একটি যৌতুক মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।








