রাজধানীর আদাবরে ফুটবল খেলা দেখার সময় বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবুল বাশার বাদশা নামে বিএনপির এক নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন নামে আরও একজন নেতা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন রাতে ব্রাজিল ও জাপানের ফুটবল খেলা দেখার সময় বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিব নবোদয় কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মজনুর ১২ বছর বয়সী ছেলে নীরবকে থাপ্পড় মারেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নীরব হাবিবকে মারতে তেড়ে যায় এবং উভয়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা মনোয়ার হোসেন জীবন ঘটনাস্থলে গিয়ে নীরবকে হাবিবের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন।

এর পরদিন ৩০ জুন সন্ধ্যায় একই এলাকায় নীরবের ভাই রিপনের সঙ্গে নবোদয় ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন।

পূর্বের বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদল ভূঁইয়া ও হাবিবসহ উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক বসে। তবে সালিশের শেষ পর্যায়ে রাত ৮টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে নবোদয় কাঁচাবাজারের ডি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কের সামনে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে সাদ্দাম হোসেন ও বাদশা গুরুতর আহত হন। তাঁদের প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাদশা মারা যান।

আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।