অবরুদ্ধ সময়ে হঠাৎনাসির আহমেদ চারদিকে অবরুদ্ধ অন্ধকারময়বিপন্ন সময়| সে-মুহূর্তে শুধু তুমিউন্মুক্ত জানালা— হুহু বেগে ভেসে যায়মুক্তির শীতল হাওয়া— স্মৃতি-সুসমায়! নিষিদ্ধ যখন আত্মপরিচয় আরগৌরবের সমস্ত সঞ্চয়— তখন হঠাৎকে তুমি সাহসী! পিতৃনাম ধরে ডাক দিলে?উল্লসিত সবুজ ডালপালাসহ সমস্ত উদ্যান! মনুষ্য রচিত এই অন্ধকারে অনিশ্চিত আলো-প্রতীক্ষায় যখন নিয়তি প্রায় লোডশেডিংয়ের অভিশাপ—তখন দিনের সূর্যহীন দিগন্তের বুকে তুমিলক্ষ লক্ষ তারার উৎসব যেন প্রতিবাদী আলো! তোমার গৌরবে আজ প্রকৃতিও আলো জ্বেলে দিয়েপ্রমাণ করেছেমুক্তির ক্ষমতা কত! অন্ধকার আলোর অধিক শক্তি নয়|   সর্বভুক তোমার বিস্তারে হাসান হাফিজ আগুন কি অন্যকে পোড়ায় শুধু? নিজেও তো পোড়েদাউদাউ শিখা হয়ে ওড়েএই যজ্ঞ দৃশ্যমানসকলের দৃষ্টির গোচরেঅগ্নিজিভ যাকে ছোঁয়জাগতিক বস্তু সমুদয়পুড়ে পুড়ে অনিবার্য পরিণতিপূরণ হওয়ার নয় এমনই সে ক্ষতিপ্রলয় বিলুপ্তি শুদ্ধ লয়| মন পুড়ছে অহর্নিশকে বা দেখে আছে কি গরজগ্রাহ্যের বালাই নাইনিঃশব্দে সে পুড়ে ছাইআহা মন আহা প্রেমতোমরা কি এ রকমই অম্লমধু বিষ?   সাজমঈনউদ্দিন মুনশী প্রস্তর,মনুষ্য-দিন শেষে  তাতেই পরিণত| স্মৃতি,স্মৃতি থেকে স্মৃতিতে বিস্তৃত| অশ্ব,ভুলে যায় গাড়ির ওজন যখন বন্ধন মুক্ত|   অমীমাংসিতসোহরাব পাশা বিদ্বেষের আগুনে পোড়েভালোবাসার অক্ষরশুধু রাত্রিই লিখে রাখে— ঘৃণ্য ব্যাধিদহন-ক্ষরণ, মেঘ ওড়েপাতা ওড়েঅশ্রু ঝরেবাড়ে দুঃসহ ঋণের ভার; জল ওড়েধূলি ওড়েনদী ওড়েমানুষের প্রিয় ছায়া ওড়েউড়ে যায় ভালোবাসার সংসার, মানুষেরই থাকে শুধু অমীমাংসিতদীর্ঘ বেদনা— স্মৃতির গুঞ্জনপ্রতিশ্রুতি না-রাখার প্রতিশ্রুতি|   আহা মানবাধিকারবিশ্বজিৎ ঘোষ সাগরের এই তীরে পূর্ব-পৃথিবীতেটিনের চালে শ্রাবণের জলতরঙ্গঈগল উড়ে এসে ধ্বস্ত করে পারসিক স্নিগ্ধতা|সাগরের ওই তীরে শান্তির আষাঢ়পাতকত বাণী কত সভা কত মায়াবী আকাশ| এই তীরে আইলান শুয়ে থাকে এজিয়ান পালঙ্কেপাতালে বিলীন হয় জাবালিয়ার হাসপাতালসাদি-রুমি-গালিবের ঘুম ভাঙে টমাহক হামলায়ফোরাতের জলে মেশে কত অশ্রু কত রক্ত কত না বিশ^াস| দেশে দেশে কত হাসি কত গান কত আয়োজনকত না অফুরান আনন্দ-লহরিআহা মানবিক পশ্চিম-পৃথিবী! আহা!আহা মানবাধিকার!আহা ঈগলীয় মানবিক সভ্যতা!  বৈঠাস্বপঞ্জয় চৌধুরী পিঠে বৈঠা চাপিয়ে হাঁটছি নিরুদ্দেশ,নৌকো নেই, নদী নেই উইপোকায় খাওয়া বিদ্যে কাগজ উড়ছে ধানপিরানের উঠোনেমাঝখানে বেহুঁশ আতলামি আক্রান্ত স্বপ্নগুলো ক্রমাগত গোঁত্তা খাচ্ছে অতীতও গুড়গুড় ডাকা আকাশে|বুকে ভাদর ডাকে পৌষালি রাতের রতিযজ্ঞ চেপেবৈঠা চাপিয়ে চলছি,কানে বাজে ছলাৎ ছলাৎ ধ্বনিএই সীমাহীন পদক্ষেপ শেষেদিগন্ত থেকে ভেসে আসে নদীর হাসফাঁস|  মাইনসেরই ভুল হয়হাদিউল ইসলাম না হয় আমি একলাই পার করমু রাইততরে তবু কই, সুখি হ সোনা সোয়ামির বাইতমাইনসেরই ভুল হয়, শোদরায়ে ঘর আলো করনা হয় আমার জীবন যৌবনেরে ভেঙাল জবর আমার ¯^পন থাইকি আরো ভালা থাকপথের ঘাস আর দুইধারে গাছের ছায়াকভাইবি দেহিস, তার মইধ্যে আমাক যদি পাসআঁচলে ঢাহিস মুখ চৌদিকে কত যে তরাস সুখি হ টিয়া পাহি, নক্ষ্ণী আমার ওরেআমারে খুঁজিসনে তুই সোয়ামির গতরেদোয়াতের নিচে আমি পইড়ি থাহা ছেমা একফালিঘর ভরা পুলাপান, হাসি একখান দে না চাম্পাকলি   ছুঁয়ে গেছমুমির সরকার বিরহ,আমাকে এতটুকুন ছুঁয়ে দেখেনি;“মোহমুগ্ধ নেশাগ্রস্তে—যতোটুকুন ছুঁয়ে গেছ তুমি!”  ছিমছাম ক্ষণজন্মা ঘরখানানেহাত  আজ প্রাণহীন,অথচ সূর্যতাপ এবং হাওয়ারাগোপন কুঠুরিতে ঢুকে দেখতেকী ভীষণ উদগ্রীব—গভীর-এর-সংহার! অহেতুক অপবাদ সরে যেতে দেখা,পরস্পর অনুযোগ-তীর-বেঁধা-বুকেআঘাত কিংবা প্রতিঘাত শুষে-শুষেশৌখিন তৈজসপত্রগুলোনিয়মিত ধুলাবালি-জালে—এখনও কতো না অম্লান! এ যেনবা সিঁথির চুলে ঢাকা নারী,বিরহ-বাঁধা কালো দু’চোখে—ছুঁয়ে গেছে আরেক অজড় বিস্ময়|  দহনরাগরফিকুল ইসলাম আধার ভাঙা এ মহাকালের অলস তরণিএই নোনাজল স্মৃতির উৎসব, সে তো এক অন্তহীন চোরাবালি,না হয় কোনো অলীক কুয়াশা—বিবশ দহনে টানে অসীম অতলে;কিংবা সে তো কেবলই এক নীরব চিল—ঠোকরায় একাকী বুকের পাঁজরে|তবু কেন বারবার অলিন্দে এসে কড়া নাড়ে,চেনা রাগে ভাঙা তারে ভেসে আসে সেই আদিম রাগিণী?অবাধ্য হৃদয় কেন তবে আজও সে একমুখী যাযাবর?কেন ক্ষণে ক্ষণে শূন্যতাকেই ছুঁতে চায়? কেনইবা বিষাদের করাতকে ভালোবাসে?মুকপ্রায় বিবাগীর অবাধ্য প্রশ্নও শেষাবধি নিরুত্তর—এক একটি নীরবতার নিঃসঙ্গ দহন|    বাতিলসম্ভবাবিনয় বর্মন খুব শীঘ্র বাতিল হবেএই দেহ এই মনপ্রোগ্রামিং হয়ে আছে শুরু থেকেইএখন শুধু সময়ের অপেক্ষা ছায়াফুল ফুটেছিল রোদবৃক্ষেশুকাতে শুকাতে এখন এতটুকুপ্রেম ছিল ঘাসের ডগায় হীরকশিশিরেএখন তা জাঙ্কবক্সে সকল কিছুই বাতিল হবেএই সৌরজগৎ এই গ্যালাক্সিবাতিলসম্ভবা এইরাজনীতি ক্ষমতার দম্ভমবসন্ত্রাস জুলাই রক্তময়অমোঘ কালের বিচার, কখনো বাতিল হয়?   ব্যর্থ অনুবাদকশেলী সেনগুপ্তা কিছু ভাষা কারো নিজস্ব,অনুবাদে ব্যর্থ আমি অপেক্ষার অনুবাদকর্মে কেটে গেলগ্রীষ্মকাল, এগিয়ে আসছে আষাঢ় মাসবৃষ্টি অনুবাদের কাঙ্ক্ষায়দৃষ্টি রেখেছি আকাশমুখি সময়ের ক্ষীপ্র ঘোড়ায়যদি আসে কদম ফুল! ভুলে যাবো, একদম ভুলে যাবোহৃদয় ভাঙার নিঃশব্দ শোক...   পুষ্পবতী কুঞ্জবনশাখাওয়াত তানভীর ফুল চাইলে—কাকে যেন দিতেই হবে! জানালাম—সেই কবে দখল হয়ে গ্যাছে পোয়াতি কুঞ্জবন;মালিক নই, আমি এখন অসাধারণ মালীঅধিকার নেই আমার ফুল ছেঁড়ার! আচ্ছা দেখছি— বলেইকুয়াশা ভেদ করে তুমি এলে, এবং দখলিদার মধুপ মুক্ত করতে গিয়েআগুন ধরিয়ে দিলে... অবিহিত দখল মুক্ত হয়েছে যদিওপুড়ে ছাই হলো— আমার পুষ্পবতী কুঞ্জবন! আমি বাগান ফেরত চাইলামদেখি— পুড়ছে সবুজ, তুমি কোথাও নাই!   ঘন শ্যাওলার ভূতআলমগীর কবীর আলম ঘন শ্যাওলার জলের গভীরে আটকে যায় চোখতাই ভয়ে পুকুরের জলে নামো না|স্বচ্ছ স্ফটিক জলের মগজ ঘরে আসো তুমিকিন্তু সেখানেও কি ভূত থাকে না?    ডাকাতের পাখিমোস্তাফিজুল হক ছদ্মবেশী সাদা কবুতর,দ্বিখণ্ডিত করে দিয়ে গেল আমাদের ঘর|আদতে পালক ছিল তার বাঁকা তলোয়ার,শান্তির খোলসে ঢাকা ছিল বেহিসাবি ধার!কবুতর ফাঁদে পড়ে-- এ-ও ভুল হয়ে গেল;পাকা ফসলের মাঠে নোনাজল বয়ে গেল!দাসখত দিয়ে রুটি খাব--এর ব্যতিক্রম হলে সমূলে হারিয়ে যাব!বাকুম বাকুম ¯^রে দিয়ে গেল ফাঁকি,

ঘরের কোণে জন্মানো ডাকাতের পাখি|