ছায়াসুর ছায়াও হারিয়ে যাচ্ছে... একথা বলতে গিয়েটিকটিকির লেজের শৈশবে খসে পড়ছেআমাদের মুখমণ্ডলব্যাঙ ও সাপের জীবন দৃশ্যের ক্ষুধায় উল্কাদের লাফিয়ে পড়ার জ্যামিতিক হিসেব জানিয়ে সম্পর্কের ওপর গান করছে হেমলক! আর আমরা ছোট হতে হতে পিঁপড়ের ছায়ায় তলিয়ে যাচ্ছি  বর্তমান নাকি এরকমই! কেউ কাউকে খুঁজে পায় না—  কবিদের বসন্ত  শূন্যের সাথে আমার অবৈধ সন্তান আছে ঘুমের ভেতর দাঁত ব্রাশ করছে নরক যেন কালো দুধ খেয়ে বড় হওয়া রাত  জোছনার ফেনায় ডুবে যাওয়া মৃত কবিদের বসন্ত বিকেল  মহাজগতকে ফ্রিজবন্দি করে চোখের ভেতরে ভাসছে পুরনো ট্রাফিক সিগন্যাল ঘুমহীন ভাঙা চোখের নিঃসঙ্গতায়নখের ভেতর আটকে গেছে সভ্যতা যেন পিঁপড়েদের গোপন মহাকাশ কর্মসূচি শেষ রাতের মহাবিশ^কে সিন করে ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে এক একটি রবিবার...  টেবিলল্যাম্পের নিচে ১টি তেজস্ক্রিয় সিগারেট ঠোঁটের খোঁজে মৃত কবিদের কবরের সন্ধান করছে  আর দূরে... চাঁদের গায়ে পিয়ানো বাজাচ্ছে অন্ধ বেটোফেন...   মহাশূন্যের দিকে যে মরে যায় তার অস্তিত্ব জন্মায় অন্যগ্রহে, ভিন্ন নামে—   ঘুমশূন্য উড়তে উড়তে খুঁজে পায় সে— ছিন্ন সমীকরণনিজের পরিত্যক্ত দেহ ও হাড়গোড়— কিন্তু চেনে না সে, যেমন কাফকা—ভাঙনের অন্ধকার ভেদ করে একটি কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরকোটি কোটি বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছেজোনাকির ডানা দিয়ে আগুন ধরাচ্ছে  তার পাশে পড়ে আছে ব্যবহৃত নক্ষত্র  ধূলিঝড় দেখলো—তিনি কোনো কথা বললেন নাশুধু— নিজের ছায়া খুলে রেখে চলে গেলেন মহাশূন্যের দিকে... সজলীয় গতিসূত্র  এক টুকরো হাওয়াকে গোল করে মহাশূন্যের শরীর ছুঁয়েছি| কোনো এক হিমযুগে জোছনানিরেট রেণু-বৃষ্টির ফোঁটায় আমাকে নিয়েই তুমি দৌড়ে ছিলে এবং দেখেছিলে— আগুনের বয়স মানুষে পুড়ে কীভাবে পাথরে রূপান্তরিত হয়েছিল  এরপর মাধ্যাকর্ষণ ও ব্ল¬্যাকহোলের অনবদ্যতা—আইনস্টাইনের থিউরির ব্যাখ্যা চলবে কয়েক ঘণ্টা; উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করবেন প্রধান বক্তা— প্রিয় সুধী, এমন কিছুই নেই যা ভরশূন্য হতে পারে কিম্বা পাল্লা দিতে পারে আলোর গতিকে ততক্ষণাৎ হালকা হাওয়ায় একটি পিপীলিকা নক্ষত্রের শরীরে আছড়ে পড়বেবলবে— আত্মা গমনের গতি আলোর চেয়েও বেশি... উপস্থিত কেউ তা শুনবে না,উল্কাপোড়া ছাইয়ের রশ্মিতে একটি আত্মা আইনস্টাইনের থিওরির ভুল প্রমাণ করতে করতে হেসে উঠবে... এবং বলবে— আত্মার গতি আলোর চেয়েও বেশি...   যেখানে সন্ধ্যা সেদ্ধ হয় সময় অতিক্রম করে হাঁটছি লাইট ট্র্যাভেলের স্পেস-টাইম বক্রতায় ছবির হাটের ঘন কুয়াশা ছড়িয়ে পড়ছেগ্যালাক্সির শেষ রেখায়কোয়ান্টাম তরঙ্গের গতিশীল হাওয়ায় কবিতা লিখি মহাকাশের ভাষায়যেখানে ছন্দ মানে গতিশীল মেঘরূপক মানে— যে নক্ষত্রের আলো আজও পৌঁছায়নি পৃথিবীতে উপমা মানে গলিত লাভার অ্যালগরিদমকিম্বা শাহাবাগে চা বানানো কেতলির সেই বাষ্পীভূত ধোঁয়া  যেখানে সন্ধ্যা সেদ্ধ হয়...ফিরে আসে জীবনানন্দ দাশের নরক খনন কর্মসূচি... সেখানে থেকে ফিরতে ফিরতে সত্যিই রাত ভেঙে যায়ছায়া ভেঙে যায়  পৃথিবী ভাবে আমি কেবল কল্পনায় থাকিঅথচ ভাঙা মহাবিশে^র ক্ষত জোড়া দিতে পৃথিবীকে রাতভর মাথায় নিয়ে হাঁটি...    অন্ধঘড়ির কাঁটা নরমসুখের ভেতর হাতির পা, নড়ে না পিঁপড়ের মেমোরি ফরমেট খেয়ে হাতির পা’কে মনে করছে প্রাচীন পাহাড়-আশ্রয়, দুধেল গাছের ছাল বাকল  আর ওদিকে গণি মিয়ার ঘণ্টা পিটুনিতে চেচাচ্ছে অফ পিরিয়ডমৃতদের হেলমেট ছাতু করে ক্যারাম খেলছে প্রতিবেশি অহংকার!অন্ধঘড়ির কাঁটা এক পৃষ্ঠার কার্বনে সূর্যগলিয়ে সিল দিচ্ছে ঢোঁরাসাপের চিকন সাঁতার আর পুকুরজুড়ে পড়ে আছে দ্বি-খণ্ডিত জলের কংকাল এভাবে আদি আগুনের তাপ নিতে গিয়ে এ দু’চোখ আর কিছুই দেখেনি কেবল ঈশ্বরের দুর্ভাগ ছাড়া!  ল্যাবরেটরি একটা আধুনিক ল্যাবরেটরি কাঁচের টিউব, কম্পিউটার, আলো বিজ্ঞান এখানে নিয়ম মানেসবকিছু মেপে, লিখে রাখা হয় অথচ আমি জানলাম ১ মানে ১ নয় ২ মানে কখনো কখনো ১০ এর অধিক ০ যেমন অনন্ত আমি দেখি  সেই কাচের মধ্যে ভাসে আমার বাবার মুখমায়ের হলুদ হয়ে যাওয়া হৃৎপিণ্ডযেখানে লেখা—মানুষ শুধু শরীর নয়, স্মৃতি দিয়ে গড়া অথচ মহাকালের ভেতর থেকে প্রতিদিনএকটু একটু করে বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে নাম, মুখ ও ঘনছায়া... বুকের এক কোণে, কোটি কোটি বছরের ধুলো হয়ে জেগে আছে একটি ঘুমন্ত অন্ধকার বলছে— আমি কে...? তুমি কে...? সে কে ...?  তারা কে...?    মঙ্গলগ্রহে সবজিচাষ  মঙ্গলগ্রহে আলু চাষ করিচাষ করি বেগুন, সিম, টমেটো বীজ ছিটাতে গিয়ে দেখি—প্রতিটি আলুর গায়ে জন্মাচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ শিশুরা সেই দেশগুলো পকেটে ভরে খেলা করছেমারবেলের মতো ছুঁড়ে মারছে এদিক ওদিক অন্য গ্রহে,যেন গতির মহাজন্ম পান করে  এক ঘর থেকে আরেক ঘরে পাঠিয়ে দিচ্ছে ভবিষ্যৎ...যেন ডাঙ্গুলি, যেন এলিয়ান খুঁজতে যাওয়া একটি ভাঙা দুপুর,মহাবিশে^র বাইরেযেন বিলুপ্তিরাও গোপনেগ্যালাক্সি-চাষ করা গতিমুখব্ল্যাকহোলের পাশে দাঁড়িয়েমৃত সূর্যের হাড়ে সেচ দিচ্ছে  আর ভাবছে—মঙ্গলগ্রহই হবে একদিন মানুষের শীতের সবজিখেত   বৈদ্যুতিক টেবিল: টেসলা ও সজলের চা-সংলাপ  মস্তিষ্কে নামছে জ্যামিতিক বৃষ্টি প্রতিটি ফোঁটা ধারালো উপপাদ্যখুলির ভেতর ত্রিভুজেরা রক্ত খেয়ে বড় হচ্ছে    আমি তুমির জগৎ থেকে ৩-এর নতুন ক্রিয়েশনে ৩ বার নিজেকে বিয়োগ করেছিযোগ করেছি ৬ বারপ্রতিবার আয়না থেকে একটি মানুষ কমে গেছে জড়ো হয়েছে কোটি কোটি ছায়া  ৯ বার স্মৃতিকে ভাগ করেছি অন্ধকারেযেন নিউরনের গোপন আদালতেবিচার হচ্ছে আমার শৈশবের বিরুদ্ধে;আর সক্রেটিস জোনাকির পাখা পড়ে আমাকে জিজ্ঞেস করছেজীবন কি স্মৃতির প্রবাহ,নাকি চিন্তার মহাকর্ষ? এই প্রশ্নোত্তরে অন্ধকারের কণ্ঠস্বর থেকে খসে পড়েছে একটু একটু আলো একটু একটু সন্ধ্যার দ্রবীভূত জীববিজ্ঞান... ১ বার মনে হয়েছেআমার জন্ম সম্ভবত কোনো মহাজাগতিক ভুল গণিতের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঈশ্বর হয়তো তার ল্যাবরেটরিতে সাপলুডুর চালে শূন্যের বদলে একটি ১ বসিয়েছেযেমন—৩/৩ = ১ — ১ = ০ (শুরুর ধোঁয়াশা কিংবা বায়বীয় শূন্যের সম্ভাবনা)৬/৩  = ২ — ১ = ১(অস্তিত্বের বিস্ফোরণ তথা আমি তুমি কিম্বা সে)৯/৩ = ৩ — ১ = ২(মানুষ ও তার অনুপস্থিতির যুগল তত্ত্ব)———————————————————————————১৬২/২৭ = ৬ — ৩ = ৩   গুণ ভাগের যোগ বিয়োগ করে ৩ মৌলের নতুন বিস্ফারণে অতীত বর্তমান ভবিষৎ লুকিয়ে আছে   লুকিয়ে আছে ত্রিভুজে— দেহ মন চেতনা কিম্বা আমি + তুমি + (সন্তান) নতুন সংখ্যা মানুষ = ক্ষুধা + জয়—ঘুম    ঈশ্বর বসে বসে সাপলুডু খেলে গন্দমগুটির রহস্যময় ক্যালকুলেটরে, অনন্ত চাপলেই—অন্ধকারে জ্বলে ওঠে শূন্যের ধারণা জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে — ৩ ৬ ৯অস্তিত্বের ক্ষেপা সংখ্যাতত্ত্ব মানুষ কি আসলেই মানুষ? নাকি ব্ল্যাকহোলের ধূলি থেকে জন্মানো শূন্যের দীর্ঘ অনিদ্রা নাকি অ্যালগরিদম ছায়া? বলার আগেই—

বৈদ্যুতিক চায়ে টগবগ করে সেদ্ধ হচ্ছে কয়েকশ ভবিষ্যৎ...