দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী, ভাষাসংগ্রামী, মুক্তিযোদ্ধা, শিল্প নির্দেশক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার বাঙালির শিল্পচর্চার নান্দনিক ভুবনে এক আইকনিক উদাহরণ হয়ে থাকবেন— তাঁর কর্ম, ব্যক্তিত্ব ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে| দীর্ঘ ৯০ বছরের জীবনে তিনি তাঁর শিল্পচর্চা থেকে এতটুকু বিচ্যুত হননি| নিরবচ্ছিন্ন কর্মময় জীবনের যেখানেই হাত দিয়েছেন সেখানেই লেগেছে শিল্পের নিবিড় স্পর্শ| তিনি যতগুলো শাখায় কাজ করেছেন, প্রত্যেকটি শাখাই পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে| বিশেষ করে শিশুমনে তিনি যেভাবে শিল্পের রঙ ছড়াতে পেরেছেন, তাঁর আগে আর কোনো শিল্পী বাঙালি শিশুহৃদয় এভাবে জয় করার দৃষ্টান্ত বিরল| এছাড়া টেলিভিশন অনুষ্ঠানে শিল্প নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় তাঁর অসামান্য বাগ্মীতা ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে এক-একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে| কবি পরিবারে জন্ম হওয়ায় সেই শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে এসব গুণ ভর করেছিল| এলোমেলো ছবি আঁকার মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল তাঁর শিল্প জীবন| পরবর্তীতে ভাষা সংগ্রাম, সঙ্গীত চর্চা, পাপেট চর্চা, শিল্প চর্চা, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ— সবই যেন তাঁর বেলায় অনায়াসসাধ্য ঘটনার মাতোই ঘটেছে|শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার একবার ছাত্রাবস্থায় বেড়াতে যান দার্জিলিংয়ে| মুগ্ধ হন এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে| জেগে ওঠে তাঁর প্রকৃতিমুগ্ধ শিল্পী মন| আঁকেন বেশ কিছু ছবি| যেখানে জীবন্ত হয়ে ওঠে এক অপার সৌন্দর্যের পাহাড়ী ভূমি দার্জিলিং| এই ছবিগুলোই তাঁর জীবনের গল্পকে নতুন দিকে ধাবিত করে| শিল্পবোদ্ধাদের অবাক করে দেওয়া এই ছবিগুলোই তাঁর জীবনে প্রথম খ্যাতি এনে দেয়| তাঁর ছবি নিয়ে ঢাকায় প্রদর্শনী হয়| শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের সেই যাত্রা আর কখনো অধোগামী হয়নি|  আবার যখন তিনি মাত্র নবম শ্রেণির ছাত্র, নারায়ণগঞ্জ থেকে শুনতে পান ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছে| ঢাকায় ভাষার জন্য প্রাণ দিচ্ছে ছাত্ররা, বাংলা ভাষাকে কেড়ে নিতে শুরু হয়েছে পশ্চিম পাকিস্তানের অপরাজনীতি; তখন তিনি দেশপ্রেম চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আঁকতে শুরু করেন একের পর এক ছবি| নারায়ণগঞ্জের দেয়ালে দেয়ালে শোভা পেতে থাকে ভাষা আন্দোলনকে উপলক্ষ করে মুস্তাফা মনোয়ারের আঁকা নানা চিত্রকর্ম| তৎকালীন শাসকের চোখে তা ভাল না ঠেকায় গ্রেফতার করা হয় শিল্পীকে, সঙ্গে তাঁর ভগ্নিপতিকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়| দু’জনকেই পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে| সেই থেকে তাঁর স্বদেশ ও মাতৃভাষার প্রতি প্রেম— যা আমৃত্যু শিরোধার্য করে রেখেছিলেন| ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে টেলিভিশনে পাকিস্তানের পতাকা প্রদর্শন করে রাত দশটায় অনুষ্ঠান শেষ করাই ছিল নির্ধারিত নিয়ম| কিন্তু শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠান মধ্যরাত পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা হয়| এরপর পতাকাপ্রদর্শন ব্যতীতই অনুষ্ঠান শেষ করে দেন| এই ঘটনা ছিল স্বাধীনতাকামী বাঙালির জন্য সাহসী প্রতিবাদ| এ ঘটনা তাঁর সহকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে| “১৯৭১-এর মার্চে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে টেলিভিশন থেকে ফজল-এ-খোদা রচিত ও আজাদ রহমান সুরারোপিত ‘সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম, চলবে দিনরাত অবিরাম’ গণসংগীতের পরিচালনায় ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার| গানটি দশজন শিল্পী গেয়েছিলেন, কিন্তু যখন গানটি প্রচারিত হয় তখন বাংলাদেশ টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে মনে হয়েছিল যেন কয়েক শ’ শিল্পী একত্রে গানটি গাইছেন| এটি সম্ভব হয়েছিল মুস্তাফা মনোয়ারের অসাধারণ নির্দেশনার কারণে| কোনো গানকে একটি অনন্য শৈল্পিক রূপ দেয়ার এটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ| টেলিভিশনে সেই গানটির প্রচারের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বইতে|” [উইকিপিডিয়া]বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মুস্তাফা মনোয়ারের অবদান নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ| মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করার সময় তিনি মুজিবনগর সরকারের সাংস্কৃতিক দলের অন্যতম নেতৃত্ব প্রদান করেন| ভারতের নানা জায়গায় সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও প্রদর্শনী করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন| পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ভীত-সন্ত্রস্ত বাঙালি শরণার্থীদের মানসিক শক্তি বাড়াতে তিনি প্রথম পাপেট শো-এর আয়োজন করেন| তিনি পাপেটের মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসক ও সৈন্যদের ব্যঙ্গ করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব তুলে ধরে শরণার্থী শিবিরের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন| এই কারণে শরণার্থীরা তাঁকে ভালোবেসে ‘পুতুলওয়ালা’ নামে ডাকতে শুরু করে| মুক্তিযুদ্ধকালীন তাঁর এই অসামান্য কীর্তি ও পাপেট শো’র দৃশ্য মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা লিয়ার লেভিনের ধারণকৃত ফুটেজে এবং পরবর্তীতে তারেক মাসুদের বিখ্যাত ‘মুক্তির গান’ চলচ্চিত্রেও প্রামাণ্য দলিল হিসেবে রয়েছে|শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার শিশুদের নিয়ে কাজ করতেন বলে এদেশের বেশ কয়েকটি প্রজন্ম তাঁকে কোনোদিন ভুলতে পারবে না| একসময় এদেশের একমাত্র দূরদর্শন ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন| মুস্তাফা মনোয়ার জীবনের দীর্ঘ একটা সময় কাটিয়েছেন বিটিভিতে চাকরি করে| আর সেখান থেকেই প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিশুরা তাঁর কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁর অনুরাগী হয়ে ওঠে| বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিশুদের ছবি আঁকা শেখানোর মতো মহত্তম কাজের সঙ্গে জড়িত থাকাকে তিনি দায়িত্ব মনে করতেন| অগণিত শিশু প্রথম রংতুলির আঁচড় শিখেছে মুস্তাফা মনোয়ারের কাছ থেকে! বাংলাদেশে পাপেট চর্চায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তিনি| বাংলাদেশের নতুন শিল্পআঙ্গিক পাপেটের বিকাশে সারা জীবন কাজ করে গেছেন| এটি ছিল তাঁর অত্যন্ত প্রিয় শিল্পমাধ্যম| লোকঐহিত্য বা ফোক কালচারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন তাঁর পাপেটধারা| তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি ‘পারুল’ চরিত্র| ‘পারুল’ নামটির সঙ্গে সঙ্গে সেই সাত ভাই জাগানো লোকগল্পের কথা মনে হয়| পারুল সাত ভাইয়ের একমাত্র বোন; সেই-ই তো একদিন সাত ভাইকে জাগিয়েছিল| এই পৃথিবীতে আবার নবজাগরণের ঘটনাটা খুব সম্ভবত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার সেই ‘পারুল’ বোনটির মাধ্যমেই ঘটাতে চান| পাপেট নিয়ে রয়েছে তাঁর বহুদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা| প্রথমবার তিনি তাঁর নিজের পাপেট দলসহ বাংলাদেশের ফোক পাপেট দল ধনমিয়াকে নিয়ে মস্কো ও তাসখন্দ সফর করেন| সেখানে বাংলাদেশের ফোক পাপেট ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে| টেলিভিশন নাটকে তাঁর শিল্পভাবনার প্রতিফলন নাটকগুলোকে নবপ্রাণ সঞ্চার করেছে| তিনি শুধু ছবি আঁকা কিংবা শিল্পভাবনায়ই নিমজ্জিত ছিলেন না; ছিলেন শিল্পকলার একজন মহৎ শিক্ষক| তাঁর উদার ও প্রগতিশীল মানসিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে| ঢাকা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পিছনের লালবৃত্তটি ছিলই তাঁরই ভাবনাজাত| দ্বিতীয় সাফ গেমসের জন্য মিশুক নির্মাণ তার কাজের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ| তাঁর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ‘রক্তকরবী’, ‘মনের কথা’, ‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’-এর মতো নাটক ও অনুষ্ঠানমালা দর্শকের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছে| ইউনিসেফের বিখ্যাত ‘মীনা’ কার্টুন প্রজেক্ট এবং দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁর ব্যাপক ভূমিকা ছিল| শিশুদের জন্য বিশ্বখ্যাত অনুষ্ঠান ‘সিসিমপুর’ তৈরিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন|মুস্তাফা মনোয়ার জলরঙে প্রচুর কাজ করেছেন| তাঁর তুলিতে বাংলার চিরন্তন রূপপ্রকৃতি, নদী, গণমানুষের জীবন এবং লোকজ ঐতিহ্য অনন্য ভাষা পেয়েছে| তাঁর নির্মিত অসংখ্য ভাস্কর্য সাধারণ ও শিল্পবোদ্ধাদের নজর কেড়েছে| তিনি ছিলেন সব্যসাচী শিল্পী| তাঁর শিল্প ভাবনা অত্যন্ত গভীর, জীবন ও জনমুখী এবং মানবিক চেতনাসমৃদ্ধ| তিনি মনে করতেন, শিল্প মানুষের জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা এক জীবন্ত মাধ্যম| একে কেবল দেয়ালে টাঙিয়ে রাখলে শিল্পের প্রতি যথার্থ মূল্যায়ন হয় না| যখন সাধারণ মানুষ অন্যায় বা শোষণের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারে না, তখন শিল্পকে কথা বলতে হয়| এই বিশ্বাসের প্রমাণ মেলে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে কার্টুন এঁকে তাঁর কারাবরণ এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শরণার্থী শিবিরে পাপেটের মাধ্যমে অবরুদ্ধ মানুষের মনে সাহস ও আশার আলো জাগানোর মধ্য দিয়ে|কলকাতা আর্ট কলেজ থেকে স্বর্ণপদকসহ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও তিনি কেবল ক্যানভাস আর গ্যালারির ড্রয়িংরুমে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, কাজের মাধ্যম হিসেবে টেলিভিশনকে বেছে নিয়েছিলেন| কেননা তিনি বুঝেছিলেন এর মাধ্যমে শিল্পকে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের কাছে অনায়াসে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব| তিনি নন্দনতত্ত্বের সাথে সাধারণ মানুষের ভাষা ও অনুভূতির সমš^য় ঘটিয়েছিলেন| তাঁর শিল্প ভাবনার সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে ছিল শিশুরা| তিনি মনে করতেন, ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুদের শিল্পের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যায়, তবে তারা মানবিক গুণসম্পন্ন ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে| তিনি শিশুদের ‘দার্শনিক সততা’য় মূল্যায়ন করতেন বলে তাদেরকে শুধু সাধারণ দর্শক মনে করতেন না| সহজ গল্প, পাপেট শো এবং ছবি আঁকার মাধ্যমে তিনি শিশুদের কল্পনাশক্তিকে ডানা মেলতে শিখিয়েছেন| তাঁর কাছে পাপেট কেবল শিশুদের সস্তা বিনোদন ছিল না| তিনি বলতেন, “পাপেটের মধ্যেই সব শিল্পকলা আছে|” কারণ পাপেট প্রদর্শনের মাধ্যমে ভাস্কর্য, চিত্রকলা, নাটক, সঙ্গীত এবং নৃত্যের এক অনন্য সমাহার ঘটে| তিনি সম্পূর্ণ স্বদেশীয় লোকজ উপাদান ও ঐতিহ্যকে ভিত্তি করে পাপেটের নতুনতর রূপ দিয়েছিলেন| তিনি তাঁর সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সবসময় একটি মৌলিক কথা বলতেন— “দেখতে শিখতে হবে|” তিনি মেঘ, বাতাস, নদী এবং প্রকৃতির রূপকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে বলতেন| তাঁর মতে, প্রকৃতিকে নিজের কল্পনায় ধারণ করে তবেই সেটিকে নিজস্ব সৃজনশীলতায় রূপ দিতে হয়| তাঁর জলরং ও ড্রয়িংয়ে এই প্রাকৃতিক ও লোকজ ঐতিহ্যের গভীর প্রভাব ছিল| তাঁর প্রয়াণে শিল্প জগৎ একজন অভিভাবককে হারাল| তাঁর চলে যাওয়ায় যে ক্ষতি হলো, তা অন্য কাউকে দিয়ে পূরণ সম্ভব নয়| মুস্তাফা মনোয়ার কর্মজীবন শুরু করেন পূর্বপাকিস্তান চারু ও কারুকলার মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে| এরপর শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচাক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার ও এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন|   মুাস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর মাগুরা শ্রীপুর থানার অন্তর্গত নাকোল গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন| তাঁর ˆপতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা থানার মনোহরপুর গ্রামে| তাঁর বাবা ছিলেন বিখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা| মাতা জামিলা খাতুন ছিলেন একজন গৃহিণী| ছয় ভাইবোনের মধ্যে মুস্তাফা মনোয়ার সর্বকনিষ্ঠ| ছোটবেলায় মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তাঁর মা মারা যান| তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু কলকাতায়| প্রথম ভর্তি হয়েছিলেন কলকাতার একটি শিশু বিদ্যাপীঠে| পরবর্তীতে তাঁর বাবা হুগলি জেলা থেকে বাকুড়া হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন| দেশে এসে প্রথমে ফরিদপুর তারপর স্থায়ীভাবে ঢাকায় শান্তিনগরে বাড়ি ক্রয় করে থাকতে শুরু করেন| মাতৃহীন হওয়ায় নারায়ণঞ্জে মেজ বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেন| সেখানে নারায়ণগঞ্জ সরকারি স্কুলে তাঁকে ভর্তি করা হয়| নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতায় স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন| কিন্তু সেখানে তিনি পড়াশোনা না করে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন| ১৯৫৯ সালে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন|

কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার| ২০০৪ সালে তিনি শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত একুশে পদকে ভূষিত হন| ১৯৫৭ সালে কলকাতার একাডেমি অফ ফাইন আর্টস আয়োজিত নিখিল ভারত চারু ও কারুকলা প্রদর্শনীতে গ্রাফিক্স শাখায় শ্রেষ্ঠ কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন| ২০১৯ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রদত্ত ‘সুলতান স্বর্ণ পদক’সহ আরও অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন| তাঁর মতো একজন মহত্তম শিল্পীর প্রয়াণে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা রইল|