আন্তর্জাতিক নারী
নারীদের বেশির ভাগই যখন জুতার ডিজাইনের কারণে পায়ের ব্যথা ও অস্বস্তিকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়েছেন, তখন মালয়েশিয়ার দুই বোন ভাবলেন, না। সৌন্দর্য দেখাতে গিয়ে পায়ে ব্যথা পাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তাঁদের সেই ভাবনা থেকে জন্ম নিল একটি জুতার ব্র্যান্ড, যেটি আজ পৌঁছে গেছে ফোর্বসের মঞ্চে।
মালয়েশিয়ান উদ্যোক্তা এস্থার তাই শেন হুই এবং অ্যামি তাই শুহ ইউক। সম্পর্কে তাঁরা বোন। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ফোর্বস থার্টি আন্ডার থার্টি এশিয়া ২০২৬’-এর তালিকায় জায়গা করে নেন তাঁরা। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের হাজারো তরুণ উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং পরিবর্তনের অগ্রদূতের মধ্য থেকে বেছে নিয়ে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে।
এস্থার ও অ্যামি মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাচিনো নামে একটি জুতার ব্র্যান্ড। এটি এমন সব জুতার জন্য পরিচিত, যেগুলো ফ্যাশন ও স্টাইলের সঙ্গে সঙ্গে আরামের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে। তাঁদের লক্ষ্যই ছিল, নারীরা যেন ফ্যাশন আর স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য না হন।
মাচিনো নামের এই ব্র্যান্ডের পণ্যের তালিকায় রয়েছে নারীদের জন্য ফ্ল্যাট জুতা, স্যান্ডেল, বদ্ধ জুতা, হাই হিল। পাশাপাশি রয়েছে হ্যান্ড ব্যাগ, টোট ব্যাগ, শিশুদের জুতা এবং পুরুষদের স্যান্ডেল।
২০২০ সালে তাঁরা বেশ ছোট পরিসরে শুরু করেছিলেন তাঁদের উদ্যোগ। সেই সময় পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে কথা হয় তাঁদের এক চাচার সঙ্গে। এই চাচা আবার ছিলেন জুতা কারখানার মালিক। সেখান থেকে শুরু হয়ে হয়েছিল এক নতুন পথচলা। কুয়ালালামপুরের সেই কারখানায় প্রথমবার যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে এস্থার বলেন, ‘এরপরের গল্পটা যেন নিজেই ইতিহাস হয়ে গেছে।’
শুধু ব্যবসা নয়, তাঁরা চেয়েছিলেন মালয়েশিয়ার স্থানীয় জুতাশিল্পকে নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে। তাই স্থানীয় কারিগরদের দক্ষতা আর আধুনিক নকশার সমন্বয়ে তৈরি করতে শুরু করেন নতুন ধরনের সব জুতা। মাচিনোর জুতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এর বিশেষ পুরু ও নরম ইনসোল। ফলে যাঁরা সাধারণত হাই হিল পরতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন না, তাঁরাও দীর্ঘ সময় এই জুতা আরামের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন।
এস্থার বলেন, ‘আমাদের বড় সাফল্য এমন এক জোড়া হিল তৈরি করা, যা মানুষ শুধু একবার নয়, বারবার কিনতে ফিরে আসেন।’
ব্যবসার ক্ষেত্রেও তাঁরা বেছে নিয়েছেন ভিন্ন এক কৌশল। নিজেদের ওয়েবসাইট, টিকটক শপ এবং নির্বাচিত কিছুসংখ্যক বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেন। এতে কমে যায় অপ্রয়োজনীয় খরচ। একই সঙ্গে গ্রাহকদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। সাশ্রয় করা অর্থ ব্যয় করা হয় পণ্যের মানোন্নয়নে, কর্মীদের উন্নয়নে এবং গ্রাহকসেবায়। মাচিনো এখন প্রযুক্তি, এআই কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে দ্রুত নতুন ধারণা তৈরি, প্রশিক্ষণ সামগ্রী প্রস্তুত, তথ্য গুছিয়ে রাখা এবং বাজারে তাঁদের পণ্যের চাহিদা বিশ্লেষণ করে। তবে এস্থার বলেন, ‘এআই আমাদের সিদ্ধান্ত নেয় না।
এটি শুধু সময় বাঁচায়, যাতে আমরা আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দিতে পারি।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এস্থার বলেন, ‘সিঙ্গাপুরই আমাদের প্রথম বিদেশি বাজার। দীর্ঘ মেয়াদে আমরা আমাদের মাচিনোকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তবে তাড়াহুড়ো নয়, মজবুত ভিত্তি তৈরি করে ধীরে ধীরে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে চাই।’
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৮টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৪ হাজার মনোনয়ন থেকে ‘ফোর্বস’ ২০২৬-এর সম্মানপ্রাপ্তদের বেছে নেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় মাচিনোর জায়গা করে নেওয়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য নিঃসন্দেহে বড় একটি অর্জন।
সূত্র: ভিএন এক্সপ্রেস, মালে মেইল ও অন্যান্য








