নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন মাঠে কাজ করছে। একই সঙ্গে পাহাড়সংলগ্ন আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস সংস্থাগুলোও আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় দিনভর মাইকিং চালানো হচ্ছে। টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন পাহাড়, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান, আকবরশাহ, বিজয়নগর, শান্তিনগর, বেলতলীঘোনা ও উত্তর হালিশহর উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‍“আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদকেও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “মানুষের জানমাল রক্ষায় সহকারী কমিশনারদের নেতৃত্বে প্রশাসনের একাধিক দল সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাউকে অবস্থান না করার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান জানান, সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে ১২৮ দশমিক ২ মিলিমিটার এবং আমবাগান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক ]দিন বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।”

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী সাতদিনে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী ও খাগড়াছড়ির নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।

অন্যদিকে টানা বৃষ্টির মধ্যেও নগরের অধিকাংশ এলাকায় বড় ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি বলে দাবি করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পানি প্রবাহ সচল রাখার কারণে অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। কোথাও যাতে পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “নগরবাসীর সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাল-নালা ও ড্রেনে বর্জ্য না ফেললে পানি নিষ্কাশন আরো কার্যকর হবে।”

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় চলমান কাজগুলো নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন এলাকার পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে অতিবৃষ্টির মধ্যেও পানি দ্রুত সরে যেতে পারে।”

প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের অযথা ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।