টানা তিন দিন ধরে চট্টগ্রামে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে পানি ঢুকে পড়েছে আগ্রাবাদ, হালিশহর, কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাটসহ নগরীর আরও বেশকিছু নিম্নাঞ্চলে। ডুবে গেছে কাঁচা-পাকা সব সড়ক। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। বিশেষ করে যারা কাজে বাড়ির বাইরে বের হন তারা পড়েছেন বিপাকে। যেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া ২০০ সেখানে চাওয়া হচ্ছে ৬০০-৭০০, রিকশা ভাড়া ২০ টাকার বদলে নিচ্ছে ৫০-৭০ টাকা।
আরও পড়ুন
চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলার বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
টানা বৃষ্টিতে হাঁটুসমান পানি জমলেই যেন বদলে যায় চট্টগ্রাম নগরীর সড়কের চিত্র। যানবাহনের সংকট তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যায় ভাড়ার হিসাবও। যে পথে স্বাভাবিক সময়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় যাওয়া যায়, জলাবদ্ধতা দেখা দিলে সেই পথের ভাড়া চাওয়া হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
নগরীর চকবাজার থেকে কাতালগঞ্জ রিকশায় যেখানে স্বাভাবিক ভাড়া ২০ টাকা সেটা এখন ৫০ থেকে ৭০ টাকা।
গত ২ দিনের টানা ভারী বর্ষণে নগরের আগ্রাবাদ, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, বাদামতলী, কাতালগঞ্জ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চকবাজার, সিটি গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

সড়কে যানবাহনের মদ্যে বাসের সংখ্যা কম। ফলে অনেকে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বেশি ভাড়া দিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে নগরের কয়েকটি বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সহজে যানবাহন পাচ্ছেন না। অনেক চালক গন্তব্যে যেতে রাজি হলেও স্বাভাবিকের দুই থেকে তিন গুণ ভাড়া দাবি করছেন। ভাড়া নিয়ে দর-কষাকষির পরও অনেক যাত্রীকে উত্তেজিত হতেও দেখা গেছে।
বাকলিয়া থেকে আগ্রাবাদে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা মোস্তফা মাহমুদ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিদিন যে পথে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া লাগে, আজ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। অফিসে সময়মতো পৌঁছানোর জন্য শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়া দিতে হলো। অনেক দর কষাকষি করে ৫৫০ টাকায় যাচ্ছি।’
চকবাজার এলাকার বাসিন্দা সুমাইয়া আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, বাচ্চাকে স্কুলে পৌঁছে দিতে সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করতে গিয়ে স্বাভাবিকের প্রায় তিন গুণ ভাড়া গুণতে হয়েছে। যে ভাড়া ১২০ টাকা সেখানে ২৫০ টাকা দিতে হয়েছে।
জামাল উদ্দিন নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিদিনের হিসাব করে লাভ আছে? হাঁটুসমান পানিতে কে যাবে? রিস্ক নিয়ে যাচ্ছি। এককথা-পানি, তাই ভাড়া বেশি।’
কাতালগঞ্জের ইশমামুল হক নামে এক অভিভাবক অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা শুধু পানির নিউজ করেন, জলাবদ্ধতার নিউজ করেন। কিন্তু জলাবদ্ধতা হলেই যে ভাড়া তিন গুণ হয় সেটা কেউ লেখেন না। কাতালগঞ্জ থেকে চকবাজার মেয়েকে স্কুলে দিতে যাবো। প্রতিদিন ২০ টাকা করে যাই। আজকে নিচ্ছে ৫০ টাকা। এখন বলেন আমরা সাধারণ যাত্রীরা কই যাবো। এসব কেউ দেখেও দেখে না।’
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে ফের জলাবদ্ধতা, ২৪ ঘণ্টায় ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি
আরও একজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, জলাবদ্ধতা তৈরি হলেই একশ্রেণির চালক পরিস্থিতির সুযোগ নেন। কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করা হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ।
তবে কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা জানা যায়, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক সড়কে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পানিতে যানবাহন বিকল হওয়ার শঙ্কা থাকে। বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হয় এবং একেকটি ট্রিপ শেষ করতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগে। এ কারণে ভাড়া কিছুটা বাড়ে।
তারা বলেন, আমরা সবসময়ই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করি না। কোমরসমান পানিতে গাড়ি টেনে টেনে নিতে হয়। খুব কষ্ট করে টানা লাগে। এটাতো কেউ বুঝে না। অনেক সময় গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। গাড়ি বিকল হয়ে যায়। সময় বেশি লাগে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ বশির আহমদ জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল রাত ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যেখানে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি ছিল। তিনি বলেন, বৃষ্টি একটু কমেছে। তবে এখনো ভারী বৃষ্টিপাতের সিগন্যাল আছে। বৃষ্টি বাড়তে পারে।
এদিকে, জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় খাল, নালা ও ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারাও মাঠে রয়েছেন।
টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তাদের।
এমআরএএইচ/এসএনআর








