টানা বর্ষণে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। ভারী বর্ষণে নগরীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ।
আবহাওয়া অফিস জানায়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কয়েক দিন ধরেই চট্টগ্রামে বৃষ্টি হচ্ছে। অতি ভারী বর্ষণের কারণে নগরের নিচু এলাকায় পানি জমে গেছে। বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় কর্মস্থলগামী মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আরও অন্তত দুই দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস এবং পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি থাকায় প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
এদিকে টানা ভারী বর্ষণে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টা থেকে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর স্টেশনে ট্রেনটি আটকে ছিল। দীর্ঘ প্রায় ১১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে রেল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনটির যাত্রা বাতিলের ঘোষণা দেয়। এতে ট্রেনে থাকা প্রায় এক হাজার যাত্রী, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্করা চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ বলেন, ‘রেললাইনের ওপর অতিরিক্ত পানি থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করতে হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, যাত্রা বাতিল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত সব যাত্রীকে টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত দেওয়া হবে।








