টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি এবং পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় ও বাসা বাড়ির ভেতরে পানি জমে আছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীর আকুয়া ও ভাটিকাশর এলাকার মানুষ।
এছাড়া সানকিপাড়া,বলাশপুর, গোলকিবাড়ী এবং সেহড়া এলাকার বেশিরভাগ রাস্তাঘাট এখন হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। অনেক এলাকায় ড্রেনের নোংরা ও বর্জ্যমিশ্রিত পানি মানুষের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে।
এদিকে নগরীতে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ইজিবাইক ও রিকশা চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সুযোগ পেয়ে অটোরিকশা চালকেরা দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাকিব বলেন, পরীক্ষা শুরুর আর আধা ঘণ্টা সময় আছে, নোংরা পানি মারিয়ে এসেই কেন্দ্রে পৌঁছাতে পেরেছি। রাস্তায় পানি থাকায় কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারছে না।
আকুয়া এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, পুরো নগরীজুড়ে অপরিকল্পিত হবে কাজ করা হয়েছে। যার জন্য আমাদের ভোগান্তি কমার পরিবর্তে বেশি হয়েছে। রাস্তা থেকে ড্রেন উঁচু, রাস্তার পানি ড্রেনে প্রবেশ করতে পারে না, উল্টো ড্রেনের পানি রাস্তায় প্রবেশ করে। আমরা এই জলবদ্ধতা থেকে মুক্তি চাই। আমি একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি, নির্ধারিত সময় সেখানে পৌঁছাতে পারব কিনা জানি না। নগরীর ধোপাখলা এলাকার বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা ভোগান্তির মধ্যে রয়েছি। অল্প বৃষ্টি হলেই বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে। সকাল থেকে ঘরবন্দি অবস্থায় আছি। আমরা চাই সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব থাকা ব্যক্তিরা যেন নগরবাসীর সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রুকনুজ্জামান রোকন বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি কমে যাওয়ার পরপরই পানি কমতে শুরু করেছে। যেসব এলাকায় পানি জমে আছে, তা নিষ্কাশনে কর্মীদের নিয়ে কাজ করছি।








