টানা বর্ষণে দ্বিতীয় দিনের মতো জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েছেন চট্টগ্রাম নগরবাসী। একদিনের ব্যবধানে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও নগরজীবনে ভোগান্তি আরো বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালেও চকবাজার, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চান্দগাঁও, মোহরা, কুয়াইশ, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় সড়ক ও অলিগলি পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক ভবনের নিচতলা, দোকানপাট, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে। অনেক পরিবারের রান্নাঘরের চুলাও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার প্রস্তুত করতেও দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা।
চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা প্রায় হাটু সমান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
নগরের বাইরে হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, সাতকানিয়া, সীতাকুণ্ডসহ প্রায় সব উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সন্দ্বীপের সঙ্গে নৌযোগাযোগও প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন পানির নিচে চলে গেছে। ফলে কক্সবাজারগামী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং ষোলশহরে আটকে পড়া কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে বুধবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করেছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এদিকে, দুর্যোগের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জলাবদ্ধতার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। নগরবাসী ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে দুর্গত মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটারে পৌঁছায়, যা গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালের ১১ জুন ৪০৮ মিলিমিটার এবং ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিও এখনো বিদ্যমান।
অন্যদিকে, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও বুধবার পর্যন্ত বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় চসিকের ১০১ সদস্যের র্যাপিড রেসপন্স টিম মাঠে কাজ করছে। যেসব স্থানে পানি আটকে যাচ্ছে, সেখানে চসিক ও সিডিএর কর্মীরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন।








