এবারের বিশ্বকাপে রেফারিং নিয়ে যেন সমালোচনার শেষ নেই। গ্রুপ পর্ব, নকআউট পর্ব—সব জায়গায় চলে আসছে বিতর্কিত রেফারিংয়ের প্রসঙ্গ। বোস্টনে গত রাতে হারের পর আর্জেন্টাইন রেফারি ফাকুন্তো তেয়োর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি।
বোস্টনে গত রাতে বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল নিয়েই মূলত ওয়াহবি অভিযোগ করেছেন। ৬০ মিনিটে হওয়া গোলের বিল্ডআপে ফ্রান্সের মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিওর হাতে বল লেগেছে বলে মনে হয়। মরক্কোর ফুটবলাররা হ্যান্ডবলের আবেদন করলেও রেফারি তেয়ো সেটা গুরুত্ব দেননি। মুহূর্তেই দেজিরে দুয়ের পাস রিসিভ করে গোল দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এমবাপ্পের গোলের আগে রাবিও হ্যান্ডবল করেছেন বলে দাবি করেন ওয়াহবি। ম্যাচ শেষে মরক্কোর কোচ বলেন, ‘হ্যান্ডবল হওয়ায় কয়েক জন ফুটবলার খেলা বন্ধ করে দিয়েছিল। হ্যান্ডবলের ঘটনা অবশ্যই হয়েছিল। ঘটনাটি ছিল ফিফটি-ফিফটি। তবে সেটি ফাউল হিসেবে ধরা উচিত ছিল কি না, আমি নিশ্চিত নই।’
তেয়ো গতকাল আরও একটি কারণে সমালোচিত হয়েছেন। ২৫ মিনিটের সময় এমবাপ্পে পেনাল্টি পেলেও রেফারি সেটা ঘোষণা দিয়েছেন ৩ মিনিট দেরিতে। তবে ২৮ মিনিটে ফরাসি ফরোয়ার্ড পেনাল্টি থেকে গোল আদায় করে নিতে পারেননি। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু তা সহজে প্রতিহত করেছেন। তখন নিজের স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্টে আর্লিং হালান্ড পোস্ট করেন, ‘পেনাল্টির জন্য ৫ মিনিট অপেক্ষা করা আসলেই অনেক দীর্ঘ সময়।’ এমবাপ্পেরও দাবি, দেরির কারণে তাঁর মনোযোগে বিঘ্ন ঘটেছিল।
এমবাপ্পের পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিতে দেরি হওয়ায় ভিএআর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমও। মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের পর দেশম বলেন, ‘আমি হালান্ডের সঙ্গে পুরোপুরি একমত। আমার বিশ্বাস, প্রথমে একটি ভিএআর পর্যালোচনা হয়েছিল। তারপর দ্বিতীয়বারও পর্যালোচনা করা হয়। তাতে প্রায় ২ মিনিট সময় নিয়েছিল। ঠিক কী ঘটেছিল, আমি নিশ্চিত নই। এতে বেশ কিছু সময় লেগেছিল। কিলিয়ান শট নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। আমি কোনো অজুহাত দিতে চাই না। তবে পরিস্থিতি মোটেও সহজ ছিল না।’
এমবাপ্পে ৮ গোল করে চলতি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে। লিওনেল মেসিও ৮ গোল করেছেন। কিন্তু মেসির অ্যাসিস্ট একটি। এমবাপ্পে করেছেন ৩ অ্যাসিস্ট। উসমান দেম্বেলে করেছেন ৫ গোল। এমনকি তাঁর একটি হ্যাটট্রিকও রয়েছে। ফ্রান্সের ১৬ গোলের ১১ গোল এমবাপ্পে-দেম্বেলে মিলে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। ক্লাব ফুটবলের দুর্দান্ত ফর্ম তাঁরা ধরে রেখেছেন বিশ্বকাপেও।








