দেশের বন্ধ ও সংকটে থাকা বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকে কোনো ঋণ পাবে না অর্থ পাচারকারীরা। এছাড়া একই সঙ্গে ঋণের অর্থ যথাযথ খাতে ব্যবহার না করে অন্য খাতে স্থানান্তর করে থাকলে বা ঋণের অর্থ অপব্যবহার করলেও তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ দির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সূত্র জানায়, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বন্ধ ও সংকটে থাকা শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল করার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসাবে ৪ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে।

সার্কুলারে বলা হয়, দেশের বড় শিল্প ও সেবা খাতের বিশেষ করে রপ্তানিমুখী যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বা আশিংক বন্ধ অথবা মূলধন সংকটে সক্ষমতা অনুযায়ী বানিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছে না ওই সব প্রতিষ্ঠানকে পুরোমাত্রায় সচল বা উৎপাদন বাড়াতে ঋণ সহায়তা দিতে বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্যের অর্থ নিয়ে এ তহবিল গঠন করা হয়। তহবিলের ব্যবস্থাপনা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলার অনুযায়ী, আলোচ্য তহবিল থেকে ঋণ গ্রহণে আগ্রহী গ্রাহককে বেশ কিছু বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। গ্রাহকের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বা ব্যাংক নিজস্ব উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহ করে প্রত্যয়নপত্র দেবে। এর মধ্যে গ্রাহকের নামে ইতঃপূর্বে দেশ থেকে টাকা পাচার, জালজালিয়াতি করে তহবিল স্থানান্তর, ঋণের অর্থ অপব্যবহার হয়নি মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। অর্থাৎ কোনো গ্রাহকের নামে দেশ থেকে টাকা পাচারের বা জালজালিয়াতির অভিযোগ থাকলে তিনি আলোচ্য তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে ঋণের অর্থ যথাযথ খাতে ব্যবহার না করে অন্য খাতে স্থানান্তর করে থাকলে বা ঋণের অর্থ অপব্যবহার করে থাকলে তিনিও আলোচ্য তহবিল থেকে কোনো সুবিধা পাবেন না।