বাংলাদেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির সঙ্গে বনভূমির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। অথচ দেশের মোট ভৌগোলিক আয়তনের মাত্র ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৩ লাখ হেক্টর ভূমি বনাঞ্চলের আওতায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য মোট ভূখণ্ডের অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। সেই তুলনায় বাংলাদেশের বনসম্পদ শুধু পরিমাণগতভাবেই নয়, গুণগত দিক থেকেও নানা সংকটের মুখোমুখি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- দেশের অসংখ্য মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হলেও তাদের জীবনমান উন্নয়নে এখনও পর্যাপ্ত ও টেকসই উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে বনভূমি দখল, অবৈধ বৃক্ষনিধন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং জনসংখ্যার চাপ এই খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

এমনি এক বাস্তবতায় সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জাতীয় সংসদে বনভূমি সংক্রান্ত উল্লিখিত তথ্যটি তুলে ধরেন। নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের উপস্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, দেশের বন ও বনভূমি সংরক্ষণের জন্য সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে বন ও বনভূমির রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যবেক্ষণ এবং বন-সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে যৌথ বন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে বনজ সম্পাদ রক্ষায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এছাড়া রাজস্ব ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ব্যাপকভাবে চারা উৎপাদন এবং বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৃক্ষ আচ্ছাদন বৃদ্ধি তথা পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও মন্ত্রী সংসদকে জানান। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান, বন্যপ্রাণী দিবস পালন এবং ওয়াইল্ডলাইফ অলিম্পিয়াডের মতো কর্মসূচি আয়োজন ও প্রচারের কথাও তিনি বলেন। মন্ত্রী বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬-এর ৬(৪) ধারার আওতায় বন বিভাগের চিহ্নিত অগ্রাধিকারভিত্তিক বনভূমির জরিপ, সীমানা নির্ধারণ এবং রেকর্ড হালনাগাদের কাজ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর এই বক্তব্য সময়ের শুভবার্তা বহন করে।

বলা বাহুল্য, বন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে মোট ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫২ একর (১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টরের বেশি) বনভূমি বেদখলে রয়েছে। মোট ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ একর বনভূমির মধ্যে ৯০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি ও প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। আমি এই বিষয়টিও মন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বাংলাদেশের বনজ অর্থনীতি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। দেশের বনাঞ্চল দ্বারা আচ্ছাদিত সুন্দরবন, পার্বত্য বনাঞ্চল, শালবন এবং সামাজিক বনায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বনসম্পদ থেকে কাঠ, বাঁশ, বেত, জ্বালানি কাঠ, মধু, মোম, ঔষধি উদ্ভিদসহ বিভিন্ন অ-কাষ্ঠজাত পণ্য উৎপাদিত হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। যদিও দেশের জিডিপিতে বন খাতের সরাসরি অবদান তুলনামূলকভাবে কম। তবে কৃষি, আসবাবপত্র শিল্প, কাগজ শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জন্য বনজ সম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবন পর্যটন ও পরিবেশগত সেবার মাধ্যমে পরোক্ষ অর্থনৈতিক সুবিধাও প্রদান করছে।

সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের বনজ অর্থনীতির সম্ভাবনা আরও সুদূর প্রসারিত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ, আধুনিক বন ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যিক বনায়ন এবং বনভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই খাত আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। এছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগ, গবেষণা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে বনজ খাত টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

জ্বালানি এবং আয়-উপার্জনের জন্য সরাসরি বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি। বাংলাদেশের প্রায় ৬৪ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। এই সংখ্যাটি বৈশ্বিক গড়ের (প্রায় ৩৩%) তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি মানুষ সরাসরি নিজেদের জীবিকার জন্য বনের ওপর নির্ভরশীল। কেবল সুন্দরবনের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ৪০ লাখ মানুষ জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। এর মধ্যে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ সুন্দরবন থেকে কাঠ, মধু, মাছ ও অন্যান্য সম্পদ আহরণ করে সরাসরি জীবিকা পরিচালনা করে।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, বিশ্বে তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ বন ও বনজ সম্পদের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই হার বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট স্থলভাগের প্রায় ৩১ থেকে ৩২ শতাংশ এলাকা বনভূমিতে আবৃত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) তথ্যমতে, বিশ্বে মোট বনভূমির পরিমাণ প্রায় ৪.১৪ বিলিয়ন হেক্টর। প্রায় ১.৬ বিলিয়ন (১৬০ কোটি) মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে বনের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল।

এদের মধ্যে খাদ্য, জ্বালানি এবং আয়-উপার্জনের জন্য সরাসরি বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি। বাংলাদেশের প্রায় ৬৪ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। এই সংখ্যাটি বৈশ্বিক গড়ের (প্রায় ৩৩%) তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি মানুষ সরাসরি নিজেদের জীবিকার জন্য বনের ওপর নির্ভরশীল। কেবল সুন্দরবনের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ৪০ লাখ মানুষ জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। এর মধ্যে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ সুন্দরবন থেকে কাঠ, মধু, মাছ ও অন্যান্য সম্পদ আহরণ করে সরাসরি জীবিকা পরিচালনা করে।

বাংলাদেশের বনাঞ্চল প্রধানত তিন ধরনের- পাহাড়ি চিরহরিৎ বন, শালবন এবং ম্যানগ্রোভ বন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন দেশের জন্য শুধু প্রাকৃতিক ঢাল নয়, অর্থনৈতিক সম্পদেরও অন্যতম উৎস। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট এবং মধুপুর অঞ্চলের বনজ সম্পদ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কাঠ, বাঁশ, বেত, মধু, গোলপাতা, ঔষধি উদ্ভিদ, জ্বালানি কাঠসহ বিভিন্ন অপ্রচলিত বনজ পণ্য হাজার হাজার পরিবারের আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বনভূমির গুরুত্ব রয়েছে। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বনভূমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন সময় উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের গতি ও তীব্রতা কমাতে সুন্দরবন ভূমিকা রাখছে। পার্বত্য অঞ্চলে বনভূমি সংকুচিত হওয়ায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের সন্ধানে শহরমুখী হচ্ছে- যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাও বাড়াচ্ছে।

আমি মনে করি, বাংলাদেশে বনজ পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার ও মূল্য সংযোজনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বাঁশ, বেত, মধু, ঔষধি গাছ এবং বিভিন্ন অপ্রচলিত বনজ পণ্যকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মানুষের আয় বাড়বে। সুন্দরবনের মধু বা পার্বত্য অঞ্চলের বাঁশজাত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে রপ্তানি সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। এছাড়া বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ইকো-ট্যুরিজম, মাছ চাষ, পশুপালন, ফলদ ও ঔষধি গাছের চাষের মতো কার্যক্রম তাদের জন্য নতুন আয়ের পথ খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে নারীদের সম্পৃক্ত করে কুটিরশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলে সামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

বন উজাড় ও অবৈধ দখল বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাও জরুরি। উন্নয়নের নামে বনভূমি ধ্বংস করলে তার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি অর্থনীতি ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই ভয়াবহ হতে পারে। কারণ বন শুধু কাঠের উৎস নয়, এটি কার্বন শোষণ, পানি সংরক্ষণ, মাটি রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অন্যতম ভিত্তি।

আশার কথা সরকার ইতোমধ্যে সামাজিক বনায়ন, উপকূলীয় বনায়ন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল যেন প্রকৃত বননির্ভর মানুষ পায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, বেসরকারি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ আমাদের অর্থনীতি ও পরিবেশের ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করছে বনসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর। বন রক্ষা এবং বননির্ভর মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে একই সূত্রে গাঁথতে না পারলে পরিবেশগত সংকট যেমন বাড়বে, তেমনি দারিদ্র্য ও বৈষম্যও গভীর হবে। তাই সময় এসেছে বনকে শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে নয়, মানুষের জীবন ও জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করার।

বর্তমান বাস্তবতায় বন উজাড়, অবৈধ দখল, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ বনসম্পদের ওপর নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর নীতি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে অংশগ্রহণমূলক বন ব্যবস্থাপনা। আরও আশার কথা, দেশে বনভূমির পরিমাণ ১৬ শতাংশ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০৩০ সাল। এই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে নতুন করে বন সৃজন করতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার দখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার করতে হবে।

এ ছাড়া সরকারের আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশের সবুজায়ন বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সামগ্রিকভাবে, একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কর্মসূচির আওতায় বন বিভাগ, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণের কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে কর্মসূচির সাফল্য শুধু গাছ লাগানোর সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না; যথাযথ পরিচর্যার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে কেবল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; প্রয়োজন বন সংরক্ষণকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা। সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বেসরকারি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বনব্যবস্থাপনা। সেই পুরনো স্লোগানকে সামনে এনে বলতে চাইÑ বন বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। আর মানুষ ও প্রকৃতির এই সহাবস্থানের মধ্য দিয়েই নির্মিত হবে আগামী দিনের সবুজ, সমৃদ্ধ ও টেকসই বনসমৃদ্ধ বাংলাদেশÑ যেখানে উন্নয়ন ও পরিবেশ একে অপরের পরিপূরক হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ নিশ্চিত করবে।

লেখক : কলাম লেখক ও শিল্পোদ্যোক্তা।

এইচআর/জেআইএম