আর্থিক সংকটের কারণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা অবিকল বাস্তবায়ন করতে পারছে না বর্তমান নির্বাচিত সরকার। ফলে প্রস্তাবিত কাঠামোয় কিছু কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে নতুন পে-স্কেল একবারে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে এ বিষয়ে সচিব কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সুপারিশ চূড়ান্ত করতে আরও অন্তত দুটি বৈঠক প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরপরই সুপারিশ অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে এবং সরকারের অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে যাচ্ছে সচিব কমিটি। যদিও এতে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে এসব সমস্যা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার সুপারিশও থাকবে। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হয়েছে ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই তারিখ থেকেই বেতন-ভাতার আর্থিক সুবিধা পাবেন। তবে বাস্তব অর্থ পরিশোধ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হতে পারে।

এ বিষয়ে সচিব কমিটির এক সদস্য বলেন, সচিব কমিটি এখনও তাদের সুপারিশমালা জমা দেয়নি। তাদের হয়তো আরও কিছু সময় প্রয়োজন। 

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি হয়তো এক বা দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। সচিব কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। প্রয়োজন হলে তিন ধাপেও বাস্তবায়ন করা হতে পারে।

এদিকে নতুন অর্থবছর শুরু হলেও এখনও নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।

কিন্তু গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় বাস্তবায়নের ধরন, বেতন কাঠামো এবং ভাতা সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা এখন আর সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকায় কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পান না।

এমএএস/এমআরএম