সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার উত্তর সীমান্তজুড়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ এক শ্রেণির সরকার দলীয় চোরাকারবারি চক্র। পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবাধে চলছে ভারতীয় চোরাচালান ব্যবসা। পুলিশ প্রশাসন চোরাচালানিদের কাছ থেকে নিচ্ছে নগদ বখশিস। সড়ক ও নৌপথে চলে সরকারদলীয় সাইনবোড দিয়ে মহিষ, গরু, চিনি, জিরা, মদ, গাঁজা, ইয়ারা ব্যবসা। এদের কাছ থেকে দোয়ারাবাজার, ছাতক ও পৌর বিএনপি, যুবদল ছাত্রদলের একশ্রেণির একাধিক নেতাকর্মীরা জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। চোরাচালানি মহিষ ও গরু বোঝাই ট্রাক আটকিয়ে চাঁদাবাজির একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা দেখার কেউ নেই। পুলিশ প্রশাসন দেখে ও না দেখার বান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার হচ্ছে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বিপরীতে ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করছে মদ, ইয়াবা, অস্ত্রসহ নানা নিষিদ্ধ পণ্য। সীমান্তজুড়ে এই অবৈধ বাণিজ্যের ফলে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে দেখা দিয়েছে দেশীয় মাছের সংকট। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০টি ট্রাকে করে কই, শিং, মাগুর, পাবদা এমনকি চাঁদপুরের রুপালি ইলিশও সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হচ্ছে। দেশে এসব মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও ভারতে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় চোরাকারবারিরা অবৈধ পথকেই বেছে নিচ্ছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্থানীয় হাট-বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ছাতক ও দোয়ারাবাজার সীমান্তের বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা, শিমুলতলা, কুলাউড়া সীমান্তের ১২৩৬ নম্বর পিলার এবং বোগলা ইউনিয়নের ইদুকোনা সীমান্ত এখন চোরাচালানের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, প্রতি ট্রাক মাছ সীমান্ত পার করতে ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুস দিতে হয় পুলিশ প্রশাসন ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের। স্থানীয় বাজারে পাবদা মাছের পাইকারি মূল্য কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা হলেও ঢাকায় বিক্রি হয় ৩৭০ থেকে ৪০০ টাকায়। অথচ ভারতে একই মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ায় সব খরচ বাদ দিয়েও প্রতি ট্রাকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত লাভ থাকে। সূত্র জানায়, পাবদা মাছ বরফ দিয়ে ১০ থেকে ১৫ কেজির প্যাকেটে সংরক্ষণ করা হয়। আর কই, শিং ও মাগুর মাছ পানিভর্তি বড় বড় ড্রামে রাখা হয়। প্রতিটি ট্রাকে ২৫ থেকে ৩০ মন মাছ বোঝাই করে প্রথমে স্থানীয় গোপন আড়তে রাখা হয়। পরে গভীর রাতে সীমান্তের নির্ধারিত পয়েন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয় ভারত ও বাংলাদেশের শ্রমিকরা। সুযোগ বুঝে ট্রাক থেকে মাছ নামিয়ে দ্রুত ভারতীয় ট্রাকে স্থানান্তর করা হয়। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ পাচারের পাশাপাশি একই রুট দিয়ে ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করছে বিদেশি মদ, ইয়াবা এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য। আগে আওয়ামী লীগের সাবেক মেম্বার বুলবুল আহমদ ও নেতৃত্বে চলত। এখন বিএনপি, জামায়াত, যুবদল, ছাত্রদলের নেতৃত্বে সড়ক ও নৌপথে চোরাচালানী ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে এক অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশের পেছনে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যেরও সহযোগিতা রয়েছে।

দোয়ারাবাজার ও ছাতক থানার দুজন নামধারী ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে প্রতিদিন রাতে চাঁদা আদায় করছেন তারা। এ বিষয়ে ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুরসালিন বলেন, ‘ভারতে মাছ পাচার এবং ভারত থেকে মদসহ অন্যান্য অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।