বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি এইচ১এন১ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে পাঁচ দিনের জন্য আইসোলেশনে ছিলেন। উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এ অবস্থাতেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি নিজের সমর্থন ও সংহতি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
শনিবার (২৫ জুলাই) ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে অভিনেত্রী জানান, আগামী পাঁচ দিন তিনি আইসোলেশনে থাকবেন। একই পোস্টে দিল্লির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।
পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রথম দিকের তারকাদের একজন ছিলেন শাবানা আজমি। তিনি জন্তর মন্তরে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেন। তার সেই অংশগ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
অসুস্থ হওয়ার পরও আন্দোলনের প্রতি নিজের সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন শাবানা। তিনি জানান, তরুণদের সাহস ও অঙ্গীকার এখনো তাকে অনুপ্রাণিত করে।
ইনস্টাগ্রামে স্বাস্থ্যগত অবস্থার কথা জানিয়ে শাবানা লেখেন, “প্রিয় মুম্বাইবাসী, গতকাল আপনাদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি এইচ১এন১-এ আক্রান্ত হয়েছি। তাই আগামী পাঁচ দিন আমাকে আইসোলেশনে থাকতে হবে। তবুও আমি আপনাদের প্রতি আমার সংহতি ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই।”
তিনি আরো লেখেন, “মাঠে থাকা তরুণদের কাছ থেকে আমি সরাসরি খবর পাচ্ছি। তাদের অনেকেই জীবনে প্রথমবারের মতো কোনো আন্দোলনে অংশ নিয়েছে এবং নিজের কণ্ঠ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি উপলব্ধি করেছে। আপনাদের সাহস ও অঙ্গীকার আমাকে অনুপ্রাণিত করছে। আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি এবং সংহতি প্রকাশ করছি।”
‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ
গত ২০ জুলাই, ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন হাজারো মানুষের সঙ্গে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন শাবানা আজমি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেতা প্রকাশ রাজের সঙ্গে একটি ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের মাঝে থাকা কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন।
সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে—এমন খবরকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ছিল।” একইসঙ্গে আন্দোলনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।
জন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করে শাবানা লেখেন, “তরুণ সহযোদ্ধাদের সহায়তায় জন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে উঠছি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং পুরো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবিতে আমরা এখানে এসেছি। দেশের প্রকৃত উন্নয়ন পরিমাপ করতে জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বরাদ্দ দিতে হবে।”
তিনি আরো একটি ভিডিওতে তার বাবা কবি কাইফি আজমির কবিতা আবৃত্তি করেন। শাবানার ভাষ্য, সত্য কথা বলার জন্য মানুষকে যে মূল্য দিতে হয়, তার বাবার কবিতায় সেই বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে।
টিয়ার গ্যাস, হাঁপানির আক্রমণ এবং আবার আন্দোলনে ফেরা
পরে শাবানা জানান, দিল্লির বিক্ষোভে টিয়ার গ্যাসের সংস্পর্শে এসে তার হাঁপানির (অ্যাজমা) সমস্যা দেখা দেয়। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি হাঁপানির রোগী। টিয়ার গ্যাসের কারণে আমার অ্যাজমার সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে আমার সঙ্গে ইনহেলার ছিল, তাই এখন আমি ভালো আছি।”
তিনি জানান, অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে সম্মানের সঙ্গে কাছের একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ইনহেলার ব্যবহারের পর তিনি আবার আন্দোলনস্থলে ফিরে গিয়ে লাঠিচার্জের শিকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের প্রসঙ্গে শাবানা বলেন, “তাদের মনোবল সত্যিই অসাধারণ। তাদের প্রত্যেককে আমার সালাম।”
এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভ চলাকালে টিয়ার গ্যাস ও পুলিশের পদক্ষেপ তিনি নিজ চোখে দেখেছেন। তবে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবিতে অনড় ছিলেন।
কেন আন্দোলনে যোগ দিলেন?
আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শাবানা বলেন, তিনি এবং তার স্বামী গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার প্রথমে বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন।
তার ভাষায়, “জাভেদ সাহেব ও আমি ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখেছিলাম। সেখানে আমরা সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমরা আশ্বাস দিয়েছিলাম, চিঠিটি প্রকাশ্যে আনব না; গোপনীয়ভাবেই অনুরোধ করছি। জবাবে জানানো হয়েছিল, দুই দিনের মধ্যে আমাদের জানানো হবে। আমরা অপেক্ষা করেছি, শেষ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এখানে এসে আন্দোলনে যোগ দিয়েছি।”
আন্দোলনের পটভূমি
শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার পর গত কয়েক সপ্তাহে আন্দোলন আরো জোরালো হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে তার অনশন শেষ হয়।
২০ জুলাই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা নয়াদিল্লিতে জড়ো হয়ে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির ব্যানারে সংসদের দিকে পদযাত্রা করেন। দিল্লি পুলিশ সেই মিছিল আটকে দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছেন। পাশাপাশি কথিত নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করছেন।
এই আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়ে শাবানা আজমি চলচ্চিত্র অঙ্গনের অল্প কয়েকজন তারকার একজন হয়ে উঠেছেন, যারা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন জানিয়ে থেমে থাকেননি; বরং রাজপথে নেমে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
*ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে








