চাঁদপুরে ৮ মাসের কন্যাসন্তানকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে চুরির নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। আজ শনিবার বিকেলে শিশুর ক্রেতা থানায় হাজির হয়ে বিক্রির ঘটনা প্রকাশ করলে পুলিশ সত্য উন্মোচন করে।
শিশুর মায়ের নাম শিউলি বেগম। তিনি চাঁদপুর শহরের রঘুনাথপুর ভাঙ্গারপুল এলাকার লিটনের স্ত্রী।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুকন্যা লামিহাকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন মা শিউলি বেগম। পরে তিনি চাঁদপুর শহরের মিশন রোড এলাকার অচেতন হয়ে পড়ে ‘সন্তান অপহরণ’-এর গল্প প্রচার করেন। তিনি দাবি করেন, শহরের দর্জিঘাট এলাকায় বাবার বাড়ি থেকে কন্যাকে নিয়ে তিনি অটোরিকশায় করে স্বামীর বাড়িতে ফিরছিলেন। মিশন রোড এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশায় থাকা এক মহিলা তাঁকে অচেতন করে কন্যা ও সঙ্গে থাকা ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে তাঁকে রাস্তার পাশে ফেলে যান অটোরিকশার চালক। এ ঘটনায় শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তবে আজ বিকেলে শিশুকন্যার ক্রেতা ইয়াসিন আক্তার ওরফে কামরুল থানায় হাজির হলে সত্য প্রকাশ পায়। পুলিশ জানায়, শিশুটিকে চুরি করা হয়নি বরং মা-বাবার সম্মতিতে এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে চুরির নাটক সাজানো হয়েছিল। শিশুটিকে ক্রয়ের বিষয়ে আদালতের অ্যাফিডেভিটের কাগজপত্র পুলিশকে দেখিয়েছেন ক্রেতা ইয়াসিন আক্তার।
শিশুর বাবা লিটনের দাবি, স্ত্রী শিউলি তাঁকে না জানিয়েই শিশুকন্যাকে বিক্রি করেছেন। তবে শিউলি বেগমের দাবি, তাঁর স্বামী গত দুই মাস ধরে কোনো কাজ করছেন না। সংসার চলছে না এবং শিশুকে দুধ খাওয়ানোর টাকা নেই। তাই তিনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।
শিউলির মা জানান, সংসারে অভাবের কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুটিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, মা-বাবা সম্মতিতেই শিশুটিকে ওই নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে শিশুটি ওই দম্পতির কাছে নিরাপদে রয়েছে। এটি দুই পরিবার ও আদালতসংশ্লিষ্ট বিষয়।








