একটা সময় বিশ্বকাপের একটা অলিখিত রীতিই যেন হয়ে গিয়েছিল, ইউরোপের দলগুলো ইউরোপের বাইরে গিয়ে বিশ্বকাপ জিততে পারে না। যে ভুল আগেই ভেঙে দিয়েছে স্পেন-জার্মানি। এবার আবারও ইউরোপের বাইরে বিশ্বকাপে, শেষ আটে ছয়টি দলই এবার ইউরোপের। ইতিহাস বলছে, ইউরোপের বাইরে শেষ আটে ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের পর এটাই সেরা সাফল্য।
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্রথম দিনেই প্যারাগুয়েকে হারিয়ে পরের পর্বে গেছে ফ্রান্স। পরদিন ব্রাজিলকে হারিয়ে নরওয়ে ও আজতেকায় মেক্সিকোকে হারিয়ে ইংল্যান্ডও উঠে গেছে শেষ আটে। শেষ ষোলোর এর পরের লড়াইয়ে পর্তুগাল ও স্পেনের ‘অল ইউরোপিয়ান’ ম্যাচে জিতেছে স্পেন আর বেলজিয়াম হারিয়েছে বিশ্বকাপের আরেক স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে। আর শেষ দিন কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে জিতেছে সুইজারল্যান্ড। ফ্রান্স, নরওয়ে, ইংল্যান্ড, স্পেন, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ড—ইউরোপের এই ছয়টি দল উঠেছে শেষ আটে।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইউরোপ থেকে খেলেছিল ১৩টি দল। এর মধ্যে সাতটিই উঠেছিল শেষ আটে। যে একটি মাত্র দল ইউরোপের বাইরে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল, শেষ পর্যন্ত সেই ব্রাজিলই সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
এরপর ২০০২ দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে শেষ আটে ইউরোপ থেকে ছিল চারটি দল। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে শেষ আটে খেলেছিল মাত্র তিনটি দল, যদিও সেবার শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইউরোপের স্পেন। শেষ আট পর্যন্ত এটাই ইউরোপের দলগুলোর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ ফল।
২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ইউরোপ থেকে চারটি দল খেলেছিল শেষ আটে। আর সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইউরোপ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ছিল পাঁচটি।
পুরো বিশ্বকাপ বিবেচনায় নিলে শেষ আট পর্যন্ত ইউরোপের সেরা সাফল্য ১৯৩৪। ইতালিতে হওয়া সেই বিশ্বকাপের শীর্ষ আটের আটটি দলই ছিল ইউরোপের। এরপর সর্বোচ্চ সাতবার খেলেছে ১৯৫৮ সুইডেন ও ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে। গত কয়েকটি বিশ্বকাপে লাতিন আমেরিকার বাইরে আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার দলগুলোও জায়গা করে নিচ্ছে শেষ আটে। এবার যেমন ইউরোপের বাইরে থেকে শেষ আটে আছে আর্জেন্টিনা ও মরক্কো। আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপে মরক্কো খেলছে শেষ আটে।







