নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে যোগ করা হয়েছিল ১০ মিনিট! সেই যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটের সুপার সাব গোঞ্জালো রামোস গোল করলে মনে হচ্ছিল পর্তুগালের শেষ ১৬ নিশ্চিত। কিন্তু টরন্টোতে তখনও অনেক নাটক বাকি! যোগকরা সময়ের ১৩ মিনিটে সময় ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরে আত্মঘাতী গোলে! কিন্তু ১০৭ মিনিটে রেফারি ভিএআর দেখে জানান সেটি অফসাইড ছিল। এরপর ১০৯ মিনিটের সময় শেষ  বাশি বাজে! 

রোমাঞ্চে ভরপুর এক লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করে পর্তুগাল। ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। তবে বিরতির পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৩ মিনিটে দ্রুত গড়ে তোলা এক আক্রমণ থেকে ইভান পেরিসিচের বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।

গোল হজমের পর চাপে পড়ে যায় পর্তুগাল। ৫৮ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওর বাঁকানো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দুই মিনিট পর বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল পাননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে ৬৮ মিনিটে আর হতাশ হতে হয়নি পর্তুগিজ অধিনায়ককে। পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান রোনালদো। বিশ্বকাপের নকআট পর্বে এটি ছিল তাঁর প্রথম গোল। গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন পাঁচবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী তারকা। রোনালদোরা সমতায় ফেরার পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। ৭৫ মিনিটে পর্তুগালকে আবারও বিপদে ফেলে ক্রোয়েশিয়া। মাঝমাঠ থেকে মাতেও কোভাচিচের জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলেও তিনি গোলের চেষ্টা করেন, কিন্তু অসাধারণ ডাইভ দিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।

৮১ মিনিটে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ রোনালদোকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান রুবেন নেভেসকে। মাঠ ছাড়ার সময় রোনালদোর মুখে কিছুটা হতাশার ছাপ থাকলেও ম্যাচের ভাগ্য তখনও নির্ধারিত হয়নি।

অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা ৯৪তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে রাফায়েল লিয়াওর নিখুঁত ক্রস দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে জালে পাঠান গনসালো রামোস। শেষ মুহূর্তের সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।

রুদ্ধশ্বাস এক জয় নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে জায়গা করে নেয় সেলেসাওরা। সেখানে সোমবার ডালাসে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।