যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কিছু অংশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়তে যাচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোতেও। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এন ডব্লিউ এস)) আগামী কয়েক দিনের জন্য চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে, যা শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর সময়সূচির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, কয়েকটি আয়োজক শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, দর্শক এবং ফিফার জন্যও বিষয়টি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে যেসব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া-ঘানা, প্যারাগুয়ে–ফ্রান্স এবং ব্রাজিল-নরওয়ে।

এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি প্যারাগুয়ে ও ফ্রান্সের ম্যাচকে ঘিরে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় অনুভূত তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় ৯০ মিনিটের ম্যাচে খেলোয়াড়দের শারীরিক চাপ অনেক বেড়ে যাবে।

এই তাপপ্রবাহ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে এবং ৪ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন এটি সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরগুলোতে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আর্দ্রতার কারণে কিছু এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।

দিনের তীব্র গরমের পাশাপাশি আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো রাতে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমা। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, অনেক অঞ্চলে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকবে। এতে দিনের দীর্ঘ সময়ের তাপের পর শরীরের স্বাভাবিকভাবে পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী আবহাওয়াজনিত দুর্যোগগুলোর একটি, কারণ এর ক্ষতিকর প্রভাব ধীরে ধীরে জমা হয় এবং অনেক সময় শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ার আগ পর্যন্ত তা বোঝা যায় না।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বকাপ আয়োজক শহরগুলো ইতোমধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। নিউইয়র্কে কুলিং সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে এবং বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য অস্থায়ী হাইড্রেশন স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। একইভাবে শিকাগোতেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সেবা জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডার পূর্বাঞ্চলেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অন্টারিও ও কুইবেক প্রদেশে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শহর টরন্টোতে অনুভূত তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আলবার্টা প্রদেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা এ সপ্তাহে অঞ্চলটির চরম আবহাওয়ার আরেকটি উদাহরণ।

আরআর/আইএইচএস