অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারানোর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে ১৬ বছর পর প্রথম নকআউটে কোনো জয়ের দেখা পেলো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। ২০১০ সালের পর আরও তিনটি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলেও কোনোটিতেই নকাউটে জয়ের দেখা পায়নি স্প্যানিশরা।

২০১০ সালে সোনালী প্রজন্মের হাত ধরে প্রথম বিশ্বকাপ জয় করেছিলো স্পেন। জাভি, ইনিয়েস্তা, ক্যাসিয়াস, রামোস, ফ্যাব্রেগাস, ভিয়া কিংবা সার্জিও বুস্কেটসরা যে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন, সে ধারাবাহিকতা ছিল পরের দুই বছর পর পর্যন্ত। ২০১২ সালে এই প্রজন্মই উপহার দেয় টানা দ্বিতীয় উইরো চ্যাম্পিয়নশিপ।

এরপর কোথায় যেন হারিয়ে গেছে স্পেনের সেই সোনালি ঐতিহ্য। প্রতিটি বিশ্বকাপ এবং ইউরো কাপে স্পেন আসে ফেবারিট হিসেবে। কিন্তু যারপরনাই হতাশাই উপহার দেন দেশটির ফুটবলাররা। জাভি, ইনিয়েস্তা, ক্যাসিয়াস কিংবা রামোসরা এরপরও অনেক বছর দলে ছিলেন, কিন্তু কোথাও যেন সুতার সুক্ষ বন্ধনটা কেটে গিয়েছিল।

ভিসেন্তে দেল বস্কের পরের যে সব কোচ এসে দায়িত্ব নিয়েছেন স্পেন ফুটবলের, তারা দলটিকে একসুতোয় গেঁথে বেশিদূর যেতে পারেননি।

এই যেমন ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে তিনটা বিশ্বকাপ আসর শেষ হয়েছে, কোনোটিতেই দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে উপরে উঠতে পারেনি তারা। ২০১৪ বিশ্বকাপে তো গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় ঘটেছে লা রোজাদের। ‘বি’ গ্রুপে নেদারল্যান্ডস ও চিলির পেছনে তৃতীয় হয়ে বিদায় নিতে হয়।

এরপর ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উন্নীত হয়েছিল স্প্যানিশরা। নকআউটে তারা মুখোমুখি হয় স্বাগতিক রাশিয়ার। ১-১ গোলে ড্র করে নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও গোল করতে পারেনি। এরপর টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় তারা।

২০২২ বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব টপকে গিয়েছিল স্পেন। ‘ই’ গ্রুপে জাপানের কাছে হারলেও দ্বিতীয় হয়ে ওঠে নকআউটে। সেখানে তারা মুখোমুখি হয় মরক্কোর। ১২০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে ৩-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়। টাইব্রেকারে কেউ একবারও মরক্কোর জালে বল জড়াতে পারেননি।

এবারই গত ১৬ বছরে প্রথম নকআউটে জয় পেয়েছে স্পেন। রাউন্ড অব-৩২ এ অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠে গেছে লা রোজারা।

আইএইচএস/