ভূঞাপুর পৌরসভার প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি যানবাহন, ভারী নির্মাণ যন্ত্রপাতি ও মেশিন বছরের পর বছর অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অব্যবস্থাপনা এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের অনিয়মের কারণে এসব মূল্যবান সম্পদ কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। জানা যায়, সরকারি অর্থে কেনা বালু পরিবহণের হাইগ্রনিক গাড়িটি দীর্ঘদিন পৌরসভার কাজে ব্যবহার না করে সাবেক মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের ব্যক্তিগত ইটভাটায় ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবহারের পর প্রায় পাঁচ বছর ধরে অর্ধকোটি টাকা মূল্যের গাড়িটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া একটি পেলোডার দীর্ঘদিন শুধু ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল হয়ে রয়েছে। সেফটি ট্যাংক পরিষ্কারের জন্য কেনা ভ্যাকম ট্রাকটি ব্যাটারি না থাকায় প্রায় সাত বছর ধরে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আট ও তিন টন ধারণক্ষমতার দুটি রোড রোলারও প্রায় ১৫ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। সামান্য রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ আজ অকেজো হয়ে পড়েছে বলে দাবি কর্মকর্তাদের। পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, সময়মতো তেল, ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে অধিকাংশ যন্ত্রপাতিই সচল রাখা সম্ভব ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় সরকারি সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সাবেক মেয়র মাসুদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মাহবুব হোসেন বলেন, আমি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেসব গাড়ি ও যন্ত্রপাতি মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব, সেগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








