মাদারীপুর পৌর শহরের অধিকাংশ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরানবাজারসহ শহরের অন্তত ডজনখানেক প্রধান সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

একদিকে খানাখন্দে ভরা অন্যদিকে বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মাদারীপুর পৌরসভা ও বিভিন্ন উপজেলার প্রায় দুই লাখ বাসিন্দা।

একাধিক সূত্র জানায়, জেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হচ্ছে পুরানবাজার। শুধু শহরবাসী নয় এই বাজারে বিভিন্ন উপজেলার মানুষজনও নানা প্রয়োজনে আসেন। এখানে কাঁচা-বাজার, আসবাবপত্র, ফার্নিচার, কাপড়, জুতা, স্যান্ডেলসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া যায়।

এছাড়াও পুরানবাজারে জেলার বেশির ভাগ ব্যাংকগুলো গড়ে ওঠায় লেনদেনের জন্যই এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। মাঝে মাঝে অস্থায়ীভাবে সড়ক মেরামত করলেও তা বেশিদিন টিকছে না। ফলে উপজেলাবাসীসহ মাদারীপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৪টি মৌজায় দুই লাখ মানুষের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

শহিদ বাচ্চু সড়ক
কালকিনি ও রাজৈর উপজেলাসহ মূল শহরের পশ্চিম দিকের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাসস্ট্যান্ড, ইটেরপুল, গোলাবাড়ি, থানতলী, পাকদী, খাগদী, চরমুগরিয়া, কুমারটেড, কালীরবাজার, শ্রীনদী, দুধখালী, মস্তফাপুর এবং ঘটকচরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা পুরানবাজার ঢুকতে শহিদ বাচ্চু সড়কটি ব্যবহার করেন। এছাড়াও পুরাতন বিসিকে মালামাল আনা নেওয়া করতে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতের প্রয়োজন হয়। কিন্তু জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিনের পর দিন বেহালদশায় পড়ে থাকে।

বছরের পর বছর একই চিত্র, সড়ক নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে শহরবাসী

সড়কটির তরমুগরিয়া এলাকা থেকে কাজীর মোড় পর্যন্ত বেশ কয়েকটি জায়গায় বড় বড় গর্ত হয়েছে। আবার কিছু জায়গায় খোয়া-পিচ উঠে গেছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টির কারণে সড়কের গর্তগুলো পানিতে ভরে থাকে। ফলে এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাতায়াতকারীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এছাড়াও এই সড়কে আছে সামসুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে।

রেন্ডিতলা সড়ক
শহরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে পুরানবাজারের রেন্ডিতলা সড়ক। এই সড়কটিরও বেহালদশা। পুরানবাজারের রেন্ডিতলা থেকে মিলন সিনেমা হল হয়ে আমিরাবাদ সড়কেরও একই অবস্থা। সড়কটি দিয়ে পানিছত্র, কুলপদ্বি, ছিলারচর, মঠেরবাজার, খোয়াজপুর এলাকাসহ শহরের পূর্ব ও দক্ষিণ দিকের বাসিন্দাদের যাতায়াত করতে হয়। সড়কটিতে বড় বড় গর্তসহ বিভিন্ন জায়গায় খোয়া-পিচ উঠে যাওয়ায় চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

এছাড়াও এই দুই সড়কের মাঝখান দিয়ে পুরানবাজারের দিকে গেছে ডা. সিরাজুল ইসলাম তোতা ও আ. হামিদ সড়ক। এই সড়কেরও বেশ কিছু জায়গায় গর্ত ও খোয়া-পিচ উঠে গেছে। অথচ শহরের উত্তরে বসবাসকারীদের এই সড়কগুলো দিয়েই সদর হাসপাতাল, থানাসহ জেলার বাহিরে যেতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, শহরের ইউআই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ছোট-বড় গর্তসহ বিভিন্ন জায়গায় খোয়া ও পিচ উঠে গেছে। এতে করে এই বিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিদিনই পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। একই অবস্থা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস সরদার সড়ক, মন্টু ভুঁইয়া সড়ক ও ডা. অখিল বন্ধু সড়কের।

বছরের পর বছর একই চিত্র, সড়ক নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে শহরবাসী

পুরানবাজারের কাজীর মোড় এলাকার ব্যবসায়ি দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহিদ বাচ্চু সড়কটির অবস্থা খুব খারাপ। মাঝেমধ্যে মেরামত করলেও তা ঠিকে না। দ্রুতই আবার সড়কটি খানাখন্দে ভরে যায়। এতে করে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শিক্ষার্থী সুফিয়ান রাফি বলেন, ‘শহরের সড়কগুলোর অবস্থা খারাপ। স্কুলসহ বিভিন্ন কাজে যাতায়াত করতে কষ্ট হয়।’

অটোরিকশা চালক স্বপন কাজী বলেন, শহরের প্রায় সব কয়েকটি রাস্তার অবস্থায় খুব খারাপ। অটোরিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয়। যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ে। তা ছাড়া ছোট ছোট দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। তাই দ্রুত সড়ক মেরামতের দাবি জানাই।

মাদারীপুর পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) মোছা. জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে মাদারীপুর পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে সড়ক সংস্কারও রয়েছে। খুব দ্রুত নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। আর এতে শহরবাসী উপকৃত হবেন।’

এসজেডএইচ/জেআইএম