ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল পৌরসভার আশেকপুর অংশে একটি আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
আশেকপুরে মহাসড়কের পূর্ব পাশে মসজিদ, কবরস্থানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আবার পশ্চিমপাশে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ইতিপূর্বে জনগুরুত্বপূর্ণ এই অংশে চলাচল ও মরদেহ কবরস্থানে নেয়ার জন্য মহাসড়কের বিভাজন কাটা ছিল। সেই কাটা অংশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত চলাচল করতো। গত রমজান মাসে সড়ক বিভাগ থেকে চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপর থেকে মরদেহ নেয়াসহ চলাচল করতে হয় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে।
আশেকপুরে দ্রুত একটি আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কটি টাঙ্গাইল পৌরসভার আশেকপুর এলাকাকে বিভক্ত করেছে। এর ফলে আশেকপুর এলাকাটি পূর্ব-পশ্চিম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উভয় পাশের বাসিন্দাদের। পশ্চিম পাশের বাসিন্দাদের কৃষি কাজ করতে পূর্ব পাশে যেতে হয় বিপজ্জনক ব্যস্ততম মহাসড়কটি অতিক্রম করে। কেউ মারা গেলে মরদেহ নিয়ে পূর্ব পাড়ের কবরস্থানে যেতে হয় কয়েক কিলোমিটার দূরের তারুটিয়া ও বিল ঘারিন্দা আন্ডারপাস ঘুরে।
একইভাবে পূর্ব পাশের বাসিন্দাদের শহরে, হাটবাজারে, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, অফিসে যেতে হয় পায় হেটে মহাসড়ক পার হয়ে অথবা ওই দুটি আন্ডারপাস ঘুরে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে এভাবেই বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। এরই মধ্যে মহাসড়কটি পার হতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে মারা গেছেন কয়েকজন।
আন্ডারপাসের যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জল হোসেন বলেন, প্রতিনিয়ত মহাসড়কটি ব্যবহার করে সারাদেশের লাখ লাখ মানুষের উপকার হচ্ছে। কিন্তু আমাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে একটি আড্ডার পাস নির্মাণ করা জরুরি। বিভাজন কাটা থাকলেও রোজার মধ্যে সেটিও বন্ধ করে দেয়ায় আমরা খুব বিপাকে পড়েছি।
আরেক বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া বলেন, মহাসড়ক নির্মাণের শুরু থেকে এখানে একটি আন্ডারপাসের দাবি করে আসছি আমরা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও আমাদের দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা বার বার আশ্বাস দিলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরী খান বলেন, আশেকপুরসহ মহাসড়কের আরো চারটি জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আন্ডারপাস প্রয়োজন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আশেকপুরের মতো জনগুরত্বপূর্ণ এলাকায় আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য চেষ্টা করছি। আশা করি দ্রুত সময়ে মধ্যে জনদুর্ভোগ লাঘব করতে পারবো ইনশাল্লাহ।








