স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ এখন অপতথ্য, গুজব ও অপপ্রচার; এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৎ, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা আরো জোরদার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে কক্সবাজারের একটি হোটেলে তথ্য অধিদপ্তর আয়োজিত ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন ভাবনায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালার সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কক্সবাজার স্থানীয় ২৫ জন সাংবাদিক এবং তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান খান।

কর্মশালায় উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হাছিনা আক্তার বলেন, “সরকারের নীতি, সিদ্ধান্ত ও উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে সঠিক ও সময়োপযোগীভাবে পৌঁছে দিতে জনসংযোগ কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দুর্যোগ ও সংকটকালে গুজব প্রতিরোধ এবং নির্ভুল তথ্য প্রচারেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।”

প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য যাচাই ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, এআইভিত্তিক মিডিয়া মনিটরিং, আধুনিক ডিজিটাল নিউজরুম এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলা বিষয়ে উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি বাড়ছে। অপতথ্য শুধু জনমনে বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।” তথ্য যাচাই করে প্রচারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা তথ্যপ্রবাহ আরো সহজ করা, নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়োজন এবং মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, “সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকারের সমন্বয় আরো জোরদার হয়েছে। তৃণমূলের সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।”

কর্মশালায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।