কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনার জেরে সাত শিক্ষককে ওএসডির পর সংযুক্ত কলেজে বদলি ঠেকাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় বদলি হওয়া এক শিক্ষক আন্দোলন বন্ধ করতে অশ্রুসিক্ত শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করেন।

এসময় তারা ক্যাম্পাসে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সমাধান, শিক্ষাকদের বদলি স্থগিতসহ বিভিন ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষকদের বদলি নয়, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চাই’, ‘৭ শিক্ষকের অপরাধ কী, জবাব চাই’, ‘শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করুন’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের দাবি, কলেজের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান না করে শিক্ষকদের বদলির সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

বদলি ঠেকাতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা, কেঁদে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন শিক্ষক

শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। হঠাৎ করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাদের কোনো কোনো বিভাগে ২-৩ জন শিক্ষক রয়েছে। এদের মধ্যে থেকে হঠাৎ করে বিনা কারণে শিক্ষকদের বদলি করা হলে ওই বিভাগে শিক্ষার মান তলানিতে নেমে যাবে।

তারা আরও বলেন, শুধু মহিলা কলেজ নয়, পুরো কুমিল্লা নগরীতেই জলবদ্ধাতার সমস্যা রয়েছে। তাছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার দিন ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতায় শিক্ষকদের কোনো হাত নেই। তাহলে কেন তাদের বদলি করা হবে। আমরা এই বদলি মানি না। অবিলম্বে এটি প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় শুধু মহিলা কলেজ নয়, আন্দোলন কুমিল্লাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন

এইচএসসি কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার জেরে কুমিল্লার সাত শিক্ষক ওএসডি

ক্যাম্পাসে আন্দোলনের এক পর্যায়ে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলির আদেশ পাওয়া ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করতে বলেন। এসময় তাকে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘আমি সরকারি চাকরি করি, তোমার আমার চাকরিটা খাইও না, আমি তোমাদের কাছে মাফ চাই। বদলি আমার চাকরির অংশ। তোমাদের কাছে অনুরোধ।’

বদলি ঠেকাতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা, কেঁদে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন শিক্ষক

এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা কর্মসূচির ব্যানারটি হাতে নিয়ে দুমড়ে মুচড়ে ফেলেন। এক পর্যায়ে কান্না করতে করতে শিক্ষার্থীদের হাত ধরে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এবিষয়ে কুমিল্লা মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজ ইচ্ছায় আন্দোলন করছে। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর আমি আন্দোলন বন্ধ করতে চেয়েছি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।

জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ/এএসএম