বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের তিনজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চান্দেরকোলা এলাকায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় নিহত মনিরা বেগম ও তাঁর ছেলে আহাদ হাওলাদারকে। অন্যদিকে মনিরা বেগমের মা রাশিদা বেগমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয় বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে। নিহত ব্যক্তিদের জানাজা ও দাফনে তাঁদের স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

এর আগে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে এ দিন বিকেলে স্বজনদের কাছে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কচুয়া উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামের ঘরের মধ্যে মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও সুরতহাল শেষে রাত ৮টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করলেও নিহত আহাদ ও তাঁর মায়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং কোনো মূল্যবান মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়িসহ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন চান্দেরকোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার, আহাদের মা মনিরা বেগম ও আহাদের নানি রাশিদা বেগম। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী। এ ঘটনায় গতকাল গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত মনিরা বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার।

এদিকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও মৃত্যুর কারণ ও হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যার কারণ অনুসন্ধান ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে।

অন্যদিকে হত্যার কারণ সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহত মনিরা বেগমের এক প্রতিবেশী জানান, মনিরা বেগম পরের বাড়িতে কাজ করলেও ছেলেদের ও নিজের আয়ের টাকায় একটি ভবন নির্মাণ শুরু করেছিলেন। ওই ভবনের ছাদ দেওয়ার জন্য কিছু টাকা ছিল ঘরে। আর মনিরা বেগমের একমাত্র মেয়ের কিছু স্বর্ণালংকারও মনিরা বেগমের ঘরে ছিল, এসব কিছু মানুষ জানত। এসব চুরি বা ডাকাতি করতে এসেও হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।

আবার কেউ কেউ বলছেন, আহাদ ও তাঁর মায়ের কোনো শত্রু ছিল না। আশপাশে যাঁরা প্রতিবেশী রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আহাদ ও তাঁর মা যে ঘরে বসবাস করতেন, ওই ঘরের ৫০০ বর্গফুটের মধ্যে আরও দুটি ঘর রয়েছে। সেসব ঘরের লোকজন কিছুই টের পায়নি, এ জায়গাটায় কিছুটা জটিলতা রয়েছে। আবার দুই দিন ধরে একটি পরিবারের কাউকে দেখা যাচ্ছে না এবং প্রতিবেশীরা কাউ খুঁজছে না, এটাও খুবই সন্দেহজনক।

নিহত মনিরার বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বাবা মারা যাওয়ার পরে আমরা খুবই কষ্ট করেছি। মা ও ভাই যে ঘরে বসবাস করতেন, সেটি খুবই ভাঙাচোরা ছিল। মা, আমি ও ভাই সবাই মিলে আমরা খুবই কষ্ট করে একটি ভবন করছিলাম। মায়ের সঙ্গে সবশেষ রোববার রাতে কথা হয়েছে। মা আমাকে বলেছিলেন, ছাদ করার মতো টাকা আছে। ঘরে থাকা টাকা, মায়ের ও ভাইয়ের মোবাইল ফোন এবং স্বর্ণালংকার কিছুই উদ্ধার হয়নি। আসলে কী হয়েছে, জানি না। আমাদের চাওয়া একটাই, হত্যাকারীদের বিচার, আর কিছু চাই না।’

বাগেরহাট পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, ‘বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, কচুয়া থানা-পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একাধিক দল কাজ করছে। হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। সব ধরনের সম্ভাব্যতাকে সামনে রেখে গোয়েন্দা তৎপরতাসহ পুলিশের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আশা করি, স্বল্প সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে।’