সন্ধ্যা নামলেই যেন বদলে যাচ্ছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নিজমাওনা-মেকারপাড়া এলাকার চিত্র। কয়েক দিন ধরেই স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে এক রহস্যময় বন্য প্রাণীর গল্প। কেউ বলছেন বাঘের মতো, কেউ বলছেন অচেনা কোনো হিংস্র প্রাণী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও সেই আলোচনাকে আরো উসকে দিয়েছে। ফলে প্রয়োজন ছাড়া রাতের বেলা বাইরে বের হওয়া কমিয়ে দিয়েছেন অনেক বাসিন্দা।
স্থানীয়দের এই শঙ্কার মাঝেই ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে বন বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, গাজীপুরে বাঘ থাকার কোনো বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা নেই। ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা বিশ্লেষণ করে তারা ধারণা করছেন, প্রাণীটি সম্ভবত একটি মেছো বিড়াল।
নিজমাওনা গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ফকিরবাড়ি মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় দূর থেকে প্রাণীটিকে দেখতে পান তিনি। তাঁর ভাষায়, “লেজটা ছিল বেশ লম্বা, মাথাটাও গোলাকৃতি মনে হয়েছে। আমার সামনে দিয়ে উত্তর দিকে চলে যায়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় প্রাণীটি ঘুরে বেড়ানোর কথা শুনছি। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছেন।”
একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, গত ১৯ জুলাই রাতেও তিনি প্রাণীটিকে দেখেছেন। তাঁর দাবি, এর আগেও অনেক মানুষ সেটিকে দেখেছেন এবং কয়েকটি ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। বুধবার রাতে মেকারপাড়া এলাকায় প্রাণীটির পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রাণীটি সত্যিই নিজ চোখে দেখেছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান বলেন, “স্বপ্নে দেখছি নাকি, ঘুমিয়ে দেখছি! এটা বলতে পারছি না।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বাঘের মতো দেখতে একটি প্রাণী দেখা যাওয়ার পর থেকেই আতঙ্ক বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শিশুদের একা বাইরে যেতে নিরুৎসাহিত করছেন অভিভাবকেরা।
গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য কামরুন্নাহার সাঈদ বলেন, “ফেসবুকে এ ধরনের একাধিক পোস্ট দেখেছি। আমি নিজে প্রাণীটিকে দেখিনি।”
এ বিষয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, “গাজীপুর বাঘের আবাসস্থল নয়। এখানে বাঘ আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। ভিডিও ও বর্ণনা অনুযায়ী, এটি মেছো বিড়াল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মেছো বিড়াল পরিবেশের জন্য উপকারী একটি বন্য প্রাণী। খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য রক্ষায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।”
এদিকে স্থানীয়দের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, প্রাণীটিকে দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের উসকানিমূলক আচরণ না করে দ্রুত বন বিভাগকে বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্য প্রাণীকে অযথা তাড়া করলে মানুষ ও প্রাণী-উভয়ের জন্যই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।








