বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা ও বালু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার নাম আতিকুর রহমান মণ্ডল সাগর (৩২)। বুধবার গভীর রাতে সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামের তার শ্বশুরবাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাপলা বেগম নামে এক নারীকে থানায় নিয়েছে।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম বৃহস্পতিবার সকালে জানান, জমি নিয়ে বিরোধে চাচাতো ভাইয়েরা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন আইনে ছয়টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, সাগর বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের শাহাদত মণ্ডলের ছেলে। তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক। দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে চাচাতো ভাই ইসমাইল ও জুলহাসদের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছিল।

জানা যায়, স্ত্রী মারজিয়া খাতুনকে নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। বুধবার রাত ২টার দিকে সাগর বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শুনে স্ত্রী মারজিয়া ঘর থেকে বের হন। এ সময় জুলহাস, ইসমাইলসহ ২০-২৫ জনের একটি দল টিনের গেট ভেঙে বাড়িতে ঢুকে সাগরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে সাগর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রাস্তায় পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন জানান, সাগরকে বাঁচাতে চিৎকার দিলে দুর্বৃত্তরা তাকেও হত্যার হুমকি দেয়। প্রতিবেশীর বাড়ির গলি থেকে রক্তাক্ত সাগরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও দুর্বৃত্তরা ধাওয়া করে ও ভয়ভীতি দেখায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

মা সাজেদা বেগম বলেন, তার ছেলেকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আহত অবস্থায় ছেলে পানির জন্য ছটফট করলেও খুনিরা তাকে একফোঁটা পানি দেয়নি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, সাগরের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন আইনে ছয়টি মামলা রয়েছে। তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী ছিলেন। বালু, মাদকসহ বিভিন্ন ব্যবসা করতেন। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাই ইসমাইল ও জুলহাসরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইসমাইলের মা শাপলা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি হত্যার কারণ ও জড়িতদের সম্পর্কে সব তথ্য দিয়েছেন। অসুস্থতাবোধ করায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সাগরের লাশ বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।