ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু প্রজেক্ট আছে, যেগুলো শুধু বক্সঅফিস নয়, পুরো ইন্ডাস্ট্রির গতিপথই বদলে দিয়েছে। সেই তালিকায় নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতে থাকবে ‘বাহুবলী’। মুক্তির এক দশক পরও সিনেমাটির জনপ্রিয়তা অটুট। এবার সেই মহাকাব্যিক যাত্রার অজানা গল্প উঠে এসেছে নতুন তথ্যচিত্র ‘বাহুবলী : দ্য টর্চবিয়ারার’-এ। আর সেখানেই ভক্তদের জন্য মিলেছে আরেকটি বড় চমক, ‘বাহুবলী ৩’ নির্মাণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত।
তথ্যচিত্রে কথা বলতে গিয়ে দক্ষিণী সুপারস্টার প্রভাস ‘বাহুবলী’ নির্মাণের অভিজ্ঞতাকে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে এ যুদ্ধ পর্দার তলোয়ার কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রের নয়, বরং ক্যামেরার পেছনের কঠোর বাস্তবতার। টানা পাঁচ বছরের শুটিং, শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ এবং আবেগঘন সংগ্রাম পুরো ইউনিটের জন্যই ছিল এক কঠিন পরীক্ষা।
প্রভাস জানান, ‘বাহুবলী’ তাকে শুধু খ্যাতিই এনে দেয়নি, বরং তার ক্যারিয়ারের গতিপথও বদলে দিয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, ‘সাহো’ সিনেমার হিন্দি সংস্করণের প্রথম দিনের প্রায় ২৫ কোটি রুপির আয় মূলত বাহুবলী সিরিজের প্রতি দর্শকদের ভালোবাসার ফল। তার মতে, এ সাফল্যের পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল না, ছিল শুধু ‘বাহুবলী’র তৈরি করা বিশ্বাস ও জনপ্রিয়তা।
তবে সাফল্যের এ গল্পের অন্য একটি দিকও রয়েছে। প্রভাস জানান, ‘বাহুবলী’ শেষ হওয়ার পর তিনি যে দুটি সিনেমায় অভিনয় করেন, সে সময়টুকু ছিল তার জীবনের সবচেয়ে চাপের সময়গুলোর একটি। দর্শকদের প্রত্যাশা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, সেই চাপ সামলানো সহজ ছিল না।
অন্যদিকে আনুশকা শেঠিও ভাগ করে নিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতা। অভিনেত্রী জানান, শুরুতে তিনি ভাবতেই পারেননি যে তার চরিত্র দেবসেনা গল্পের এত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে। পরিচালক এস. এস. রাজামৌলির সঙ্গে এর আগে ‘বিক্রমারকুডু’ সিনেমায় কাজ করলেও সেখানে তার চরিত্রের পরিসর ছিল সীমিত। কিন্তু ‘বাহুবলী’ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। বিশাল ক্যানভাস, রাজকীয় সেট, অসাধারণ ভিজ্যুয়াল এবং শক্তিশালী চরিত্রগুলো তাকে প্রথম থেকেই রাজামৌলির স্বপ্নের ব্যাপ্তি বুঝতে সাহায্য করেছিল।
সবচেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি করেছে তথ্যচিত্রে দেওয়া কয়েকটি ইঙ্গিত। প্রভাস, অনুশকা এবং রানা দাগ্গুবাতি-তিনজনই ভবিষ্যতে আবারও এ জগতে ফেরার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। কেউ সরাসরি ‘বাহুবলী ৩’ নামটি উচ্চারণ না করলেও তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, এ মহাকাব্যিক ফ্র্যাঞ্চাইজির গল্প হয়তো এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
যদি সত্যিই ‘বাহুবলী ৩’ নির্মিত হয়, তাহলে সেটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েলগুলোর একটি হয়ে উঠবে। কারণ, ‘বাহুবলী’ ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। আর সেই কিংবদন্তির নতুন অধ্যায় দেখার অপেক্ষায় এখন কোটি কোটি দর্শক।








