দেশের বাজার পরিস্থিতি নজরদারি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে অতি সংবেদনশীল ৩০টি পণ্যকে এই প্রযুক্তির আওতায় এনে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সরকারি অনুদান, পুরস্কার ও সামগ্রী বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বাজারের সাম্প্রতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের একাধিক সংস্থা সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু বাজার দর নয় বরং পণ্যের উৎপাদন কেমন হচ্ছে, আবহাওয়ার কারণে ফলনে কী প্রভাব পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কী পরিস্থিতি চলছে তার সামগ্রিক পূর্বাভাস পেতে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত এআই মডেল তৈরি করা হবে।’
সিলেটকে সবজি রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ সবজি রপ্তানিকারক রয়েছেন তার প্রায় অর্ধেকই সিলেটের। তবে প্যাকেজিং এবং প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন সমস্যার কারণে রপ্তানির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ সংকট সমাধানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, সবজি সংরক্ষণের সুবিধার জন্য সরকার সারাদেশে প্রায় ২০০০ কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার একটি বড় অংশ সিলেটে স্থাপন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে, যাতে কারখানাগুলো পুরোদমে সচল থাকতে পারে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান।
পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু মনসুর আসজাদ এবং কৃষি কর্মকর্তা মো. সৈকত জামিলের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল হতে অনুদান বিতরণ, ‘পার্টনার কংগ্রেস প্রোগ্রাম’, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ পুরস্কার বিতরণ, প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ছাগলের খাদ্য বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
আহমেদ জামিল/এএইচ







