বাল্টিক রাষ্ট্র নামে পরিচিত তিন দেশ ছাড়াও পোল্যান্ডে সীমিত পরিসরে ‘উসকানিমূলক’ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ঐক্য ও প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন কৌশল নিতে পারে বলে গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার হামলায় মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের আশপাশে চাপ বাড়তে থাকায় ক্রেমলিন নতুন ধরনের কৌশল নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সামরিক গোয়েন্দা সূত্রগুলো।

বাল্টিক রাষ্ট্র কারা?

বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত এবং ইতিহাস, ভূগোল ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে অনেক মিল এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুনিয়াকে বাল্টিক রাষ্ট্র বলা হয়। তিনটি দেশই আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন-এর অংশ ছিল।

রুশ সীমান্তে বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুনিয়া।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে তারা স্বাধীনতা লাভ করে। বর্তমানে তিন দেশই North Atlantic Treaty Organization (ন্যাটো) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। নিরাপত্তা ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে এই ৩ দেশের সম্পর্ক প্রায়ই উত্তেজনাপূর্ণ থাকে।

এর আগে গত সোমবার লাটভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, আমরা এমন ইঙ্গিত পাচ্ছি যে রাশিয়া বাল্টিক দেশগুলো বা পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে সামরিক উসকানির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তারা স্পষ্ট করে বলেছে, এটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর মতো কিছু হবে না। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ন্যাটোর আরেক সদস্য দেশের একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক সূত্রও গত সপ্তাহে একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানান। তার ভাষ্য, তারা এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছেন যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে কিছু একটা করার পরিকল্পনা করছেন।

সূত্রটি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের চাপে পড়ে পুতিন হয়তো ন্যাটোর ছোট সদস্য রাষ্ট্র—এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি কতটা দৃঢ়, তা পরীক্ষা করতে চাইতে পারেন।

তিনি বলেন, আমরা সবাই একমত যে পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে বিভিন্ন ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সরাসরি ঝুঁকির মুখে থাকা দেশ হিসেবে আমরা যৌথভাবে প্রস্তুতি নিতে চাই।

লাটভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, রাশিয়ার এখন দ্বিতীয় একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধফ্রন্ট খোলার সক্ষমতা নেই। তবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা অন্য ধরনের ‘হাইব্রিড হামলা’ চালিয়ে এমন একটি বার্তা দিতে চাচ্ছে যে-ইউক্রেনকে সমর্থন বন্ধ করুন, না হলে আপনারাও সমস্যায় পড়বেন।

যদিও এসব সতর্কবার্তার পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর সম্প্রতি এসব আশঙ্কা সামনে এসেছে। এদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা অনেকটাই থমকে গেছে। ফলে যুদ্ধের গতিপথ বদলাতে বা অচলাবস্থা কাটাতে ক্রেমলিন বিকল্প কৌশল নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চ্যাথাম হাউসের রাশিয়া বিশেষজ্ঞ কিয়ার জাইলস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বদলে দিতে মস্কো অন্য কোনো দেশে সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া বা ভিন্ন কোথাও নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। রাশিয়া চুপচাপ পরাজয় মেনে নেবে-এমনটি আশা করা উচিত নয়।

কেএম