ইউনিয়ন স্টেট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে রাশিয়ার ভালদাইয়ে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। বৈঠকে ইউনিয়ন স্টেটের এজেন্ডা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে শুক্রবার (২৬ জুন) সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা তাস।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে প্রেসিডেন্ট পুতিন ভালদাই আবাসে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠক করছেন।

তিনি জানান, দুই নেতা ইউনিয়ন স্টেটের কর্মসূচি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন।

পেসকভ আরও বলেন, বৈঠকে সমসাময়িক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করছেন পুতিন ও লুকাশেঙ্কো।

ইউনিয়ন স্টেট (Union State) হলো রাশিয়া ও বেলারুশের মধ্যে গঠিত একটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাভিত্তিক একীকরণ কাঠামো।১৯৯৯ সালের ৮ ডিসেম্বর দুই দেশ (Treaty on the Creation of a Union State)এ স্বাক্ষর করে। এর উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা।

এর আগে মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়েভ এর সঙ্গে এক বৈঠকে লুকাশেঙ্কো বলেন, যে পরিস্থিতিই আসুক না কেন আমরা রাশিয়ার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকব।

এর জবাবে ভোরোবিয়েভ বলেন, আমরা এর জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।

এরপর লুকাশেঙ্কো আরও বলেন, এর অন্য কোনো পথ নেই। পশ্চিমারা যদি আবার এখানে হস্তক্ষেপ শুরু করে তাহলে কী ঘটতে পারে তা আমরা ভালোভাবেই বুঝি।

২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে আছে রাশিয়া। এতে দুই দেশেরই বহু সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে, সম্প্রতি পুতিন জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া। অ্যাংকোরেজ ও ইস্তাম্বুল চুক্তি এবং বর্তমান বাস্তবতার ভিত্তিতে এই আলোচনা হতে হবে।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমনটা জানিয়েছেন বলে আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে।

গত বছর ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পুনরায় শুরু হওয়া শান্তি আলোচনার তিনটি দফা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের ১৬ মে, ২ জুন এবং ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে বড় আকারের বন্দি বিনিময় এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির জন্য উভয় পক্ষের অবস্থান তুলে ধরে খসড়া স্মারক তৈরি হয়।

কেএম