প্রশাসনে ১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে দেশে কর্মরত ১৭২ জন ছাড়াও বিদেশে পোস্টিংয়ে আছেন সাতজন। তবে পদোন্নতি বঞ্চনার অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। নিয়মিত ব্যাচ ছাড়াও অতীতে বঞ্চিত তালিকা থেকে ফের ছিটকে পড়লেন অনেকে। যাদের মধ্যে কেউ কেউ বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও উপদেষ্টাদের একান্ত সচিব (পিএস) ও ডিসি ছিলেন।

যুগ্মসচিব হিসাবে পদোন্নতির তালিকায় নিয়মিত ব্যাচ হিসাবে প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচ থেকে ৯৯ জন, ২১ ও ২২ ব্যাচের ৩৩ জন এবং ২৪ ব্যাচ থেকে পদোন্নতি পেয়েছেন ৪৭ জন কর্মকর্তা। তবে এবারও বঞ্চিতদের তালিকা বেশ দীর্ঘ হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদোন্নতি হলে একটি ব্যাচের সবার নাম সেখানে থাকবে না, এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু অস্বাভাবিক ও কষ্টের বিষয় হলো-যার পদোন্নতি পাওয়ার সব যোগ্যতা বহাল আছে, তাকে যদি পদোন্নতি দেওয়া না হয়; সে ক্ষেত্রে নানা প্রশ্ন সামনে আসে। তারা মনে করেন, দলীয় বিবেচনায় পদোন্নতি দেওয়া এবং প্রতিপক্ষ দলের মনে করে পদোন্নতি থেকে নাম বাদ দেওয়ার বাজে সংস্কৃতি থেকে দেশ এখনো মুক্ত হতে পারল না।

ক্ষোভ-অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের কয়েকজন বলেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আমরা বলতে শুনলাম, ‘কারও প্রতি কোনো প্রতিশোধ নেওয়া হবে না। প্রতিশোধ নিলে তো যে ক্ষতি হয়েছে তা ফিরে পাওয়া যাবে না।’ এমন বক্তব্যকে সবাই সাধুবাদ জানিয়েছে। কারণ, অতীতে কেউ এমন বক্তব্য দেয়নি। এছাড়া প্রথমেই বলা হয়েছিল, প্রশাসনে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদায়ন হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার যুগ্মসচিব পদে যেভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তাতে সে কথার প্রতিফলন প্রমাণ করে না।

বরং এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে, অনেক মেধাসম্পন্ন, সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাকে দ্বিতীয় দফায় বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে যারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপদেষ্টাদের পিএস হয়েছিলেন তারা সবাই কি দলবাজ কিংবা দুর্নীতি করেছেন? নিশ্চয় না। তাহলে তারা কি শুধু পিএস ছিলেন বলেই পদোন্নতি পাবেন না। এটা পদোন্নতি বিধিমালার কোথায় লেখা আছে। আর এটাই যদি অলিখিত নিয়ম হিসাবে এখনো বহাল থাকে, তাহলে এখন যারা পিএস কিংবা ডিসি হয়েছেন ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলে তারাও একই পরিণতির শিকার হবেন? চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান কি এমন বাংলাদেশ চেয়েছিল? বরং যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা তো রাগ-বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সব ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাসহ বৈষম্যহীন, মানবিক ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন-অতীতে শেখ হাসিনার সরকার খারাপ করেছে বলে কি সেই খারাপ আবার ফিরে আসবে। তাদের সাফ কথা, কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলবাজি করার প্রমাণ থাকলে আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু পূর্বের মতো প্রমাণহীন মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কাউকে অন্যায়ভাবে পদোন্নতি বঞ্চিত করা ঠিক হবে না।

তারা অভিযোগ করে এও বলেন, শেখ হাসিনার সময় নানাভাবে সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিপরায়ন অনেকে তো এবারও পদোন্নতি পেয়েছেন। হয়তো আগামী দিনেও পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করেছেন এমন চিহ্নিত কর্মকর্তাও পদোন্নতি পেয়েছেন। তাহলে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বাস্তবে কোন নীতি অনুসরণ করা হলো-সেটি কারও বোধগম্য নয়।

অনেকে মনে করেন, মহল বিশেষের ব্যক্তি স্বার্থের কারণে বিএনপি সরকার তথা প্রকারান্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইতিবাচক ইমেজ ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলার যথেষ্ট সদিচ্ছা আছে, কিন্তু তাকে সেটি করতে দেওয়া হচ্ছে না। বঞ্চিতরা জানান, পদোন্নতি রিভিউ করার জন্য আগামী সপ্তাহে তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে আবেদন করবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পদোন্নতি পেলেন যারা :

মো. সাইদুর রহমান (৬২৮০), মো. খয়বর রহমান (৬৯২৪), মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নজরুল (১৫৫০৫), নাফিসা আরেফীন (১৫৫০৮), মো. হুসাইন শওকত (১৫৫১১), মুহা. আহসান হাবিব (১৫৫১৬), মো. শরিফুজজামান (১৫৫২৪), মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন (১৫৫৩৩), মো. আমিনুর রহমান (১৫৫৩৯), মোহাম্মদ নাজমুল হাসান (১৫৫৪৪) মো. শাহীনুর আলম (১৫৫৬৩), শাহ আবদুল সাদী (১৫৫৭৬), মো: আবদুল ওয়াদুদ (১৫৫৮৩), মো: রবিউল ইসলাম (১৫৫৯৫), মো: আসাদুজ্জামান (১৫৬০০), মো: নাজমুল হুদা (১৫৬০১), আছমা আরা বেগম (১৫৬০৪), খন্দকার জাকির হোসেন (১৫৬১৩), আবু হায়াত মো: রহমতুল্লাহ (১৫৬১৪), মো: শহীদুল ইসলাম (১৫৬১৮), এস এম মুনীর উদ্দিন (১৫৬২২), মোহাম্মদ গোলাম কবির (১৫৬২৫), মো: হাফিজুর রহমান (১৫৬২৯), মুহাম্মদ আবদুর রউফ মিয়া (১৫৬৪৬), দুলাল চন্দ্র সূত্রধর (১৫৬৫৫), মো: মামুনুর রশিদ (১৫৬৫৯), হাছিনা বেগম (১৫৬৮১), রত্না শারমীন ঝরা (১৫৭২৪), মো: আবুল কালাম আজাদ (১৫৭২৯), ফারজানা আহমেদ (১৫৭৩৯), নাজিয়া ইসলাম (১৫৭৭৩), মুহাম্মদ মকবুল হোসেন (১৫৭৭৪), মো: মনিরুজ্জামান (১৫৭৮৩), সাজিয়া জামান (১৫৭৮৬), মু: খায়রুজ্জামান (১৫৭৮৭), খোন্দকার ফরহাদ আহমদ (১৫৭৮৮), সুমন চৌধুরী (১৫৭৮৯), দিল আফরোজা বেগম (১৫৭৯০), মো: শফিকুল ইসলাম (১৫৮০৪), সাইফুল ইসলাম (১৫৮০৬), রুবিনা ফেরদৌসী (১৫৮১৮), মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার (১৫৮২০), এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন (১৫৮৩৮), মোহাম্মদ দিদারুল আলম (১৫৮৪৫), জন কেনেডি জাম্বিল (১৫৮৪৭), মো: নাজমুল আলম (২০৪১৭), শাহানা সুলতানা (২০৪৩৮); নিলুফার ইয়াসমিন (৭৯১৩), রতন কুমার মন্ডল (৭৯১৭), মোহাম্মদ আহম্মেদ আলী (৭৯২১), মো: সাইফুল ইসলাম (৭৯৩৪), সালাহউদ্দিন আহাম্মদ (৭৯৪৬), মো: মাইনুল হক ভূঁইয়া (৭৯৫৪), আবদুল্লা-আল-শাহীন (৭৯৬৫), ড. মো: মাহবুবুর রশীদ (৭৯৭৭), ড. এএসএম ফজলুর রহমান (৭৯৮২), মোহাম্মদ ইকরামুল হক সরকার (৭৯৮৬), মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ (৭৯৯০), মো: মমিনুর রহমান (৭৯৯২), মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (৮০০৪), মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম (১৫৮৫৩), মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী (১৫৮৫৫), মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া (১৫৮৫৬), মোহাম্মদ জাকির হোসেন (১৫৮৫৮), মো: সাইদুজ্জামান (১৫৮৬০), মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল (১৫৮৬২), মো: ছাদেকুর রহমান (১৫৮৬৫), ফাতেমা তুল জান্নাত (১৫৮৬৮), মোহাম্মদ রুবায়েত খান (১৫৮৭০), কাজী নূরুল ইসলাম (১৫৮৭১), সফিকুল ইসলাম (১৫৮৭২), আবু ছালেহ মো: মুসা জঙ্গী (১৫৮৭৩), মো. রাজিবুল আহসান (১৫৮৭৫), হোসেন আহমেদ (১৫৮৭৬), মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম (১৫৮৮২), মো: জুলকার নায়ন (১৫৮৮৬), হাসান মূর্তাজা মাসুম (১৫৯০৩), আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন (১৫৯০৬), মো: ইয়ারুল ইসলাম (১৫৯১২), মো: আজাহারুল ইসলাম (১৫৯১৩), মো: আজাদ জাহান (১৫৯১৫), মো. ইসরাইল হোসেন (১৫৯১৬), সিফাত মেহনাজ (১৫৯১৭), কাজী শহিদুল ইসলাম (১৫৯১৮), আফরিনা ইসলাম (১৫৯২০), মো: মশিউর রহমান তালুকদার (১৫৯২১), রুমানা রহমান শম্পা (১৫৯২৫), মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বকাউল (১৫৯২৮), মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান (১৫৯৩১), আফিয়া আখতার (১৫৯৩৪), রোকসিন্দা ফারহানা (১৫৯৩৫), ড. জয়নাল আবদিন (১৫৯৩৯), বেগম মিনারা নাজমীন (১৫৯৪২), মোসা: আলিয়া ফেরদৌস জাহান (১৫৯৪৪), সাইয়েদ এ. জেড মোরশেদ আলী (১৫৯৪৫), মো. বাকাহীদ হোসেন (১৫৯৪৭), এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার (১৫৯৪৮), মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা (১৫৯৫১), মোছা. জেসমুন নাহার (১৫৯৫৮), মোহাম্মদ শওকত ওসমান (১৫৯৫৯), এস. এম. শফি কামাল (১৫৯৬০), মোহাম্মদ শফিউল আলম (১৫৯৬২), ফরিদা খানম (১৫৯৭০), শারমিন আক্তার জাহান (১৫৯৭১), শরীফা হক (১৫৯৭৪), নুসরাত সুলতানা (১৫৯৭৫), জালাল উদ্দীন (১৫৯৭৬), তাহসিনা বেগম (১৫৯৭৭), ফ্লোরা বিলকিস জাহান (১৫৯৭৯), মোস্তাফিজুর রহমান (১৫৯৮১), মো. সগীর হোসেন (১৫৯৮৪), আক্তারুন্নাহার (১৫৯৮৫), মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা (১৫৯৮৬), মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম (১৫৯৮৭), জাকিয়া সুলতানা (১৫৯৮৯), ড. মোছা. শিরিন সবনম (১৫৯৯০), লাবনী চাকমা (১৫৯৯২), মো: নুরুজ্জামান (১৫৯৯৪), এইচ এম রকিব হায়দার (১৫৯৯৬), মো: জয়নুল আবেদীন (১৫৯৯৮), গোলাম মো: শাহনেওয়াজ (১৫৯৯৯), নার্গিস পারভীন (১৬০০৩), এ টি এম শরিফুল আলম (১৬০০৫), মৃধা মো: মোজাহিদুল ইসলাম (১৬০০৮), আলীমুন রাজীব (১৬০০৯), শাহেদ মোস্তফা (১৬০১১), লুৎফুন নাহার (১৬০১৬), মো: ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েল (১৬০১৭), সামসুন নাহার সুমি (১৬০১৮), মো: নূরুল হাফিজ (১৬০১৯), রোকসানা রহমান (১৬০২১), মো: মাহবুবুর রহমান (১৬০২৪), শারমিন আলম (১৬০৩২), কানিজ ফাতেমা তানিয়া (১৬০৩৩), মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন (১৬০৩৪), মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (১৬০৪০), ইশরাত ফারজানা (১৬০৪১), মোতাকাব্বীর আহমেদ (১৬০৪৭), মো. ফয়সাল আবেদীন খান (২০৪৩৯), মো: আবদুল লতিফ (২০৪৪০), সৈয়দ জাহিদুল আনাম (২০৪৪২), মশিউর রহমান (২০৪৪৩), মো: রুহুল আযম (২০৪৪৪), মোহাম্মদ আবু কাউছার (২০৪৪৭), মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সরকার (২০৪৪৮), মো: মাহবুবুল আলম সিদ্দিকী (২০৪৫০), মোহাম্মদ আরিফুর রহমান (২০৪৫৫), এসএম ইমরুল হাসান (২০৪৫৬), মো: জালাল হাবিবুর রহমান (২০৪৬৪), ড. মো. সাইফুল ইসলাম (৮০১৬), মো. মাজেদুল ইসলাম (৮০১৮), মো. মফিদুল ইসলাম (৮০২১), ড. মো. রফিকুল ইসলাম (৮০২৭), মো. নওসাদ হোসেন (৮০৩১), মাহবুবা খাতুন মিনু (৮০৩৩), নজরুল ইসলাম আজাদ (৮০৩৪), মোছা. আইরিন সুলতানা (৮০৩৫), ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন (৮০৩৭), ডা. সঞ্জীব সুত্রধর (৮০৩৯), সাবিনা ফেরদৌস (৮০৪৭), মো. আব্দুস সবুর (৮০৫৭), মোছা. মরিয়ম বেগম (৮০৫৯), এ, কে, এম, আজিজুল হক (৮০৬১), শেখ মুহাম্মদ রেফাত আলী (৮০৬৩), মোহাম্মদ এমদাদুল বারী (৮০৬৪), মোস্তাক আহমেদ (৮০৭৬), ড. মোহাম্মদ এনামুল হক (৮০৭৭), সালমা আক্তার খুকী (৮০৭৮), ফাহমিদা হক খান (৮০৭৯), মো. রাকিব উদ্দিন (৮০৮০), মো. মোস্তাফিজার রহমান (৮০৮১), মো. সাইদুর রশিদ (৮০৮৩)। মোহা. রুহুল আমিন (১৫৫২৩), এস. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন (১৫৯২৭), সৈয়দা নাহিদা হাবিবা (১৫৯৮২), সৈয়দ শরিফুল ইসলাম (১৬০২৩), মো: সেলিম হোসেন (১৬০৪৩), মো: রফিকুল ইসলাম (২০৪৫১), মো. নাজমুল হক (৮০৭৩)।