বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের বক্তব্যকে ঘিরে প্রকাশিত কিছু সংবাদকে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে কমিশন। বিএসইসি জানিয়েছে, বন্ধ বা কার্যক্রমহীন কোম্পানিগুলোকে ডিলিস্টিং করার কোনো সিদ্ধান্ত কমিশন নেয়নি।
রোববার (১২ জুলাই) বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ জুলাই ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান পুঁজিবাজারের বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্তু তার একটি বক্তব্যকে প্রসঙ্গবিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করে দেশের কয়েকটি সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে যে, বিএসইসি বন্ধ কোম্পানিগুলোকে ডিলিস্টিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সংবাদ চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সঠিক প্রতিফলন নয়।
বিএসইসি জানায়, ওই সভায় চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন বন্ধ বা কার্যক্রমহীন কোম্পানিকে অনির্দিষ্টকাল তালিকাভুক্ত রাখা হয় না। তবে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকা কিছু কোম্পানি এখনও তালিকাভুক্ত রয়েছে, যা বিশেষ করে সাধারণ ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কোম্পানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক (ফ্রন্টলাইন রেগুলেটর) হিসেবে সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জের। এ লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং একটি যৌক্তিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন কার্যক্রমহীন কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট সময়, যেমন এক বছরের মধ্যে কার্যক্রমে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এরপরও কার্যক্রম শুরু না হলে বিদ্যমান আইন, বিধি, লিস্টিং রেগুলেশনস ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা বিবেচনা করা হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে কমিশন।
একই সঙ্গে বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, দীর্ঘদিন বন্ধ বা কার্যক্রমহীন, গোয়িং কনসার্ন নিয়ে ঝুঁকিতে থাকা, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা কিংবা লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।
এমএএস/এমআইএইচএস








