বাবা সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি ও অনুপ্রেরণার নাম। বাবা নামের বটবৃক্ষ যত দিন থাকে, তত দিন তাঁর শীতল ছায়া আমাদের সব বিপদ থেকে রক্ষা করে। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে একজন বাবা নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক সময় নিজের ইচ্ছা-স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যান। বাবার শাসনের মধ্যেও থাকে গভীর মমতা ও দায়িত্ববোধ।

বাবা দিবস উপলক্ষে ঝালকাঠি বন্ধুসভার বিশেষ সভায় নিজের বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণায় বন্ধুরা এ কথা বলেন। ‘বাবার সঙ্গে কাটানো অনুভূতি’ শিরোনামে ১৭ জুন বিকেলে ঝালকাঠি আদালত চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রাহাত মাঝি।

ঝালকাঠি বন্ধুসভার বন্ধুরা।

এক বন্ধু তাঁর বাবাকে নিয়ে বলেন, ‘খুব ছোটবেলাতেই বাবাকে হারিয়েছি। ওনাকে এখনো প্রচণ্ড মিস করি। প্রতি সেকেন্ডে, প্রতিদিন। ছিলাম বাবার আদুরে মেয়ে। বাবা ছিলেন প্রচণ্ড মেধাবী, পরোপকারী ও সৎ একজন মানুষ। ওনার কিছু বৈশিষ্ট্য আমিও পেয়েছি। বাবা সব সময় বলতেন, “কাউকে কখনো কষ্ট দেবে না, আবার নিজেও কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবে না। মানুষের পাশাপাশি সব জীবের প্রতি সদয় হবে। মনে রাখবে, তোমার জন্য কারও চোখে যেন কখনো পানি না আসে। তবে কখনো মিথ্যা কিংবা অসৎ পথে যাবে না। অন্যায় হলে চুপ থাকবে না, প্রতিবাদ করবে সঙ্গে সঙ্গে; না পারলে সময় নেবে, তা–ও ছেড়ে দেবে না। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। ক্ষুধার্তকে খাওয়াবে। যদি কেউ কখনো তোমার কাছে জল চায়, আর তোমার কাছে জল থাকে, তাহলে কখনো না করবে না। না থাকলেও যদি সম্ভব হয় এনে দেবে। জেনে বা না জেনে আমরা অনেক ভুল করি। যদি কখনো বুঝতে পারো, তোমার দ্বারা ভুল হয়েছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভুল স্বীকার করবে, সরি বলবে এবং প্রতিটি ভুল থেকে শিক্ষা নেবে।”’

শাকিল রনির সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মু. আল আমীন বাকলাই ও প্রশান্ত দাশ হরি, সহসভাপতি বীথি শর্মা বণিক ও আমিনুল ইসলাম, ম্যাগাজিন সম্পাদক সৈয়দ হান্নান, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক আন্না ইসরাত, প্রশিক্ষণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, বইমেলা সম্পাদক জুথী আক্তার, কার্যনির্বাহী সদস্য শাহারিয়া পাপন, মনিরা আক্তার, আমিনুল ইসলাম, ফাহিমা আক্তার, রিমা, রাকিবসহ বন্ধুসভার অন্যান্য সদস্যরা।

শেষে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিগত সময়ে অনুষ্ঠিত কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন বন্ধুরা।

সহসভাপতি, ঝালকাঠি বন্ধুসভা